(গত দিনের পর)
চ্যালেঞ্জের জীবন সে অনেক আগেই পার করে এসেছে। এখন একটু শান্তি চাই তার।
আসলে সারস পাখিটি ছিল বড় ধান্ধাবাজ। মনে মনে ভাবছে, উপায় একটি বের করতেই হবে। মাছদের বোকা বানাতে হবে। ওদেরকে ভুল-ভাল বুঝিয়ে ধোঁকা দিতে হবে। তা না হলে কেমন সারস পাখি আমি?
অর্ধশুকনো ছোট্ট একটি জলাশয়ের পাড়ে ছিল উঁচু ওই হিজল গাছটি। গাছের মগডালে বাস করত সে। ভাঙাচোরা একটি বাসা বানিয়ে নিয়েছে। সেই বাসায় ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে রাত পার করে। সকাল হলে বাসা থেকে উড়ে ওই জলাশয়ের অল্প পানিতে গিয়ে দাঁড়ায়। এক পায়ে দাঁড়ানোর ভঙ্গিটাও বেশ। বৃষ্টি বাদল বা প্রখর রোদে সে এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকে সে। কাছে কিনারে একটি-দুটি পুঁটি, খলসে বা চ্যালা মাছ এলে সে লম্বা ঠোঁট বাড়িয়ে খপ করে ধরে ফেলে। ধরার আগে মাছ বুঝতেও পারে না এখানে জলজ্যান্ত একটি বক দাঁড়িয়ে। ধরার পর টনক নড়ে মাছের। হায় হায়, এখন উপায়? তখন আর কোনো উপায় থাকে না।
চৈত্রের প্রখর রোদে সে দিনও দাঁড়িয়ে ছিল বকটি। কিন্তু আজকে তার পরিকল্পনা ভিন্ন। (চলবে)