(গত দিনের পর)
মাছদের কাছে তোমরা হলে জলজ্যান্ত আজরাইল। এ কাজ আমি পারব না বাপু।
সারস পাখিটি ভাবছে, আজ এ পর্যন্তই থাক। কথা ও বিশ্বাসের বীজ বপন করে গেলাম আজ। কাল এসে দেখব, বীজ গজিয়েছে কি না। তাই সরপুঁটিকে সে বলে, সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো। আজ যাই। আমার কথাটি ভেবে দেখো। তোমাদের ভালোর জন্যই এমন প্রস্তাব দেয়া। তুমি যেতে না চাও, অন্য কাউকে পাঠিয়ে দেখো। তোমাদের মৎস্য মহলে আমার প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা করো। অন্য কেউ তো রাজি হতেও পারে।
সারস বলে, আজ বাসায় ফিরে যাচ্ছি। কাল আবার আসব। সময় দিয়ে গেলাম। ভেবে দেখো। কাল এসে তোমাদের সিদ্ধান্তটা জেনে যাবো। এমন সুযোগ আর পাবে না, বলে রাখছি। পদ্মবিলের পানির স্পর্শ পেলে মাছের শরীর এমনিতেই তরতাজা হয়ে যায়। ভেবে দেখো, পদ্মবিলে যাবে, নাকি এখানেই শুকিয়ে মরবে?
সারস পাখিটি চলে গেল। হিজল গাছের মগডালে নিজের বাসায়। সেখানে রাতের ঘুম ঘুমাতে হবে। ঘুমিয়ে পড়ার আগে মনে মনে ভাবছে সে। প্রস্তাবটি একেবারে খারাপ দেইনি। নিশ্চয় মাছেরা ভাববে। আর মাত্র এক মাস। এর মধ্যেই এই জলাধারের পানি শুকিয়ে যাবে। তখন তো শুকনো পানিতে মাছগুলো আমি এমনিতেই ধরে খেতে পারব। (চলবে)