জানো, পুরান ঢাকার হোসেনী দালান ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন স্থাপত্য ও ধর্মীয় ঐতিহ্য? এটি শিয়া সম্প্রদায়ের একটি ইমামবাড়া। আদি ইমারত বহুবার সংস্কারের পর বর্তমান রূপে রূপান্তরিত হয়েছে। প্রায় ৬.২০ বিঘা জমির ওপরে নির্মিত হোসেনী দালান এখনো এক আকর্ষণীয় ভবন। ভবন কমপ্লেক্স ও পুকুর নিয়ে হোসেনী দালান। এর স্থাপত্য নকশায় বেশ ভিন্নতা দেখা যায়। হোসেনী দালান দোতলা একটি ভবন। এর দক্ষিণ দিকে রয়েছে অষ্টকোনাকৃতি আট জানালাবিশিষ্ট মিনার, মোট ৩০টি স্তম্ভ, চৌকোনাকার গম্বুজ। ভবনটি ইট-চুন-সুরকি দিয়ে নির্মিত, কার্নিশ নকশাদার। দরোজা কাঠের তৈরি এবং এতে কোনো নকশা নেই। মূল ভবনের দোতলায় প্রবেশপথের সিঁড়ি ও দক্ষিণে প্রশস্ত বারান্দা। বিশাল আয়তনের হলরুম। হলরুমে রয়েছে রেশমি কাপড়ে ঢাকা হজরত ইমাম হোসেন রা: এবং হজরত ইমাম হাসান রা:-এর কবরের প্রতিকৃতি। মহররম মাসে এখানে অনুষ্ঠান পালন করা হয়।
হোসেনী দালান নির্মাণের প্রকৃত বা সঠিক ইতিহাস নিয়ে যথেষ্ট বিভ্রান্তি রয়েছে। কিংবদন্তি রয়েছে যে, ঢাকার সুবেদার শাহ সুজার এক সুদক্ষ সেনাপতি সৈয়দ মীর মুরাদ হোসেন স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে হজরত ইমাম হোসেন রা:-এর কারবালার শোকাবহ ঘটনার স্মরণে ১৬৪২ সালে এই স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করেন।
সৈয়দ মীর মুরাদ হোসেন ১৭১৭ সালে মারা যান। তার মৃত্যুর ৭৫ বছর আগে তিনি কী করে এত বড় এক স্থাপনা অল্প বয়সে নির্মাণ করেছিলেন, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে গবেষকদের। যদি তিনি হোসেনী দালান নির্মাণ করেন, তাহলে হয়তো এর পরে কোনো এক সময়ে তা নির্মাণ করেন। আবার আর এক জনপ্রবাদ রয়েছে যে ঢাকার নায়েব-ই-নাজিম নওয়াব জসরত খান (১৭৫৪-৮৯) হোসেনী দালান নির্মাণ করেন। বর্তমানে হোসেনী দালান ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন দালানটির দেখাশোনা করছেন। এখনো অনেক দর্শনার্থী হোসেনী দালান দেখতে যান।
ছবি : ইন্টারনেট