(গত দিনের পর)
এত মাছ তখন একসাথে খাওয়া যাবে না। মরে পচে যাবে সব। তার চেয়ে যদি প্রতিদিন সকাল দুপুর বিকেল একটি একটি করে খেতে পারি, সেটা মন্দ কী? বিনে শ্রমে ক’টা দিন মাছ খাওয়া যাবে।
ভোর হলো। সারস পাখিটি আবার উড়ে গিয়ে বসল সেই জলার ধারে। মনের মধ্যে ভাবনা, নিশ্চয় কোনো সদুত্তর নিয়ে আসবে সরপুঁটি মাছটি।
বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। অগভীর পানিতে বক দেখতে পেল, ওই যে মাছটি আসছে। আরো খানিকটা বোকাসোকার মতো দাঁড়িয়ে রইল সে। সারসের মনের কূটচাল যাতে মাছে টের না পায়, তাই এমন ভাব ধরা।
পুঁটিমাছটি বকের কাছে চলে এলো। আগের মতো ভয় নেই তার আজ। এই বকটি বেশ ভালো। পরোপকারী। বকের আরো কাছে এসে সরপুঁটি বলে, গুড মর্নিং সারস। তোমার প্রস্তাবটি নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। আমরা মানে ছোট মাছেরা। এমন ছোট্ট জলাধারে ছোট মাছরাই থাকে। বড় মাছেরা অল্প পানিতে থাকে না।
সারস বলে, তা কী আলোচনা করলে? আমার প্রস্তাবে রাজি তোমরা? দেখো বাপু, গায়ে পড়ে আমি তোমাদের উপকার করতে যাবো কেন? তোমরা যদি স্বেচ্ছায় পদ্মবিলে যেতে চাও, নিয়ে যাবো। না চাইলে, নাই।
(চলবে)