নিরানব্বই.
সজীবের মনে হতে থাকে তার ভেতরে ভাঙচুর শুরু হয়েছে। গোটা শরীর যেন ভেঙে গুঁড়িয়ে চুরচুর হয়ে যাচ্ছে।
শরীরের ভেতরের ভাঙচুরের শব্দ, জামাকাপড় ছেঁড়ার পড়পড় শব্দ বাইরে থেকে শোনা গেল। সবাই তাকিয়ে পড়ল পিছনের দিকে। দেখতে পেল সজীব নামের সেই বারো বছরের কিশোরটি আর কিশোর নেই। তার জামাকাপড় ছিঁড়ে ছিঁড়ে ছিন্নবিছিন্ন হয়ে গেছে। আর তার মধ্যে লোমশ শরীরের বিশাল দেহী গরিলা শিম্পাঞ্জীর মতো একটা প্রাণী দাঁড়িয়ে আছে। তার মাথা প্রায় ছাদ ছুঁয়ে যাওয়ার জোগাড়। মাথার চুল বড় বড় এলোমেলো হয়ে কাঁধ পর্যন্ত পড়েছে। জন্তুর মতো গোটা মুখ লোমে ভর্তি হয়ে গেছে। হাতের নখ ইয়া বড় বড়। সমস্ত শরীর ঘন কালো বড় বড় লোমে ঢেকে গেছে। চোখের সামনে সজীবের এই পরিবর্তন হতে না দেখলে তারা বিশ্বাসই করত না যে জংলি জন্তুটা দাঁড়িয়ে আছে সে সজীব।
ওরা আগে এক্সম্যান স্যারকে এরকম অবস্থায় দেখেছিল। কাজেই বিস্মিত হলেও তা মাত্রা ছাড়িয়ে গেল না। কিন্তু বিজ্ঞান স্যারের চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল। বিস্ময়ে তার হাত কাঁপতে লাগল। কি মারাত্মক আবিষ্কার করে ফেলেছে এক্সম্যান স্যার?
এদিকে গুন্ডাদের অবস্থাও শোচনীয়। তারা অস্ত্রের বিরুদ্ধে, মানুষের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরতে, লড়াই করতে অভ্যস্ত। কিন্তু এরকম জন্তুর সামনে কী করবে তারা বুঝে উঠতে পারে না। মাঝরাতে এরকম একটা প্রাণীর মুখোমুখি হলে কারোরই পরানে পানি থাকার কথা নয়। (চলবে)
