একানব্বই.
‘স্যার, আপনাদের শিক্ষা শিক্ষকদের ওপর আমার হাত তোলা শেখায়নি।’ সজীব বড় মানুষের মতো ভারী গলায় বলল, ‘না হলে এতক্ষণে আপনার দশাও আপনার ওই পোষা গুন্ডাদের মতো হতো।’ সজীব দম নিলো। এই অবস্থায় কথা বলতে ওর বেশ কষ্ট হচ্ছে। ‘তবে এত সহজে আমি আপনাকে যেতে দিচ্ছি না।’ সজীব এক লাফে দরজা ঘিরে দাঁড়াল। তার বিশাল শরীরে গোটা দরজা ঢেকে গেল। মাথা ছাড়িয়ে গেল দরজার উপরে।
বিজ্ঞান স্যার তো তো করে তোতলাতে তোতলাতে বলল, ‘বলো বাবা আমাকে কী করতে হবে?’
‘আগামীকাল স্কুল অ্যাসেম্বলিতে আপনাকে সব অপকর্মের স্বীকার করতে হবে।’ সজীব বড় মানুষের মতো যুক্তিপূর্ণভাবে বলতে লাগল, ‘শুধু অ্যাসেম্বলিতে নয়, সবার সামনে আপনার সব অপকর্মের স্বীকার করতে হবে। এক্সম্যান স্যার নিখোঁজ হওয়ার পরে গুম খুন রটিয়ে স্যারের পোস্ট দখল করা, ঐতিহ্যবাহী পুরাতন ভবন ভেঙে সঙ্গীদের নিয়ে স্কুল মার্কেটের নামে ব্যবসা, আসল দলিল লুকিয়ে রেখে নকল দলিল করা এসব কিছু। না হলে কিন্তু আমি শিক্ষকের সম্মানটুকু আপনাকে দেবো না। তখন হয়তো জীবন সংশয়ের মতো ভয়ঙ্কর কিছু করতে বাধ্য হব। এরকম জন্তুর মতো প্রাণীর কৃতকর্মে কোনো অপরাধ প্রমাণ হবে না।
বিজ্ঞান স্যার হাঁটু গেড়ে বসে কম্পিত স্বরে বললেন, ‘তোমার সব কথা আমি মেনে নেব বাবা। তুমি আমাকে জানে মেরো না।’
(চলবে)
