তিন.
অনিক দু’দিকে মাথা নাড়াল। হেমন্তের হিম হিম শীত পড়েছে। এখন সবাই বাইরে ব্যাডমিন্টন, বাস্কেটবল, ক্রিকেট এসব খেলে। অনিক কিছুই খেলে না। তার সব খেলাই ডিজিটাল। কম্পিউটার, ট্যাব, মোবাইলেই কি সব গেমস খেলে। পাবজি না কি একটা গেমসের ভক্ত অনিক। এজমালি এই বাড়িটা অনিকের দাদার বলে অন্য চাচারাও এখানে থাকে। কিন্তু অনিকের সমবয়সী কোনো কাজিন নেই। একাকী নিঃসঙ্গ সময় কাটে অনিকের।
‘এ ক’দিন হয়নি। তোমার সাথে তো কথাই হয় আম্মু। আজ রাতে বলব।’ ভাবতে ভাবতেই অনিকের মাথায় অন্য জিনিস খেলে গেল। আজ রাতে বাবার সাথে ভাইবারে কথা বলবে। কিন্তু ভাইবার ছাড়াও অন্য আরেকটা মাধ্যম আছে। টেলিপ্যাথি। গত জন্মদিনে বাবার পাঠানো ওইজা বোর্ড দিয়েও চেষ্টা করা যায়? কিন্তু ওটা তো মনে হয় মৃত মানুষেরাই আসার কথা। অনিক অবশ্য প্রথম প্রথম চেষ্টা করেছিল। কেউ আসেনি। ধুত্তোর ছাই বলে অনিক ওটা উঠিয়ে রেখেছে।
মাকে মেকআপে বসিয়ে রেখে অনিক চুপিসারে কেটে পড়ল। ঢুকে পড়ল তার নিজস্ব জগতে। দাদার বানানো এই ফ্লাট বাড়িতে অনিকের নিজস্ব একটা রুম আছে। তিন বেডরুমের ফ্লাটটাতে মা এক মাস্টার বেডরুমে, গেস্ট রুম আর অনিকের রুম। অনিকের নিজস্ব জগত।
মিসেস জেরিনের মেকআপ শেষ। তিনি ড্রেসিং টেবিল থেকে উঠতে গিয়ে একটু ভ্রু কুচকালেন। না, তার ভ্রুর মেকআপে কোনো সমস্যা হয়নি। (চলবে)