পাঁচ.

ফিজিও সেন্টারে মিসেস জেরিনের সিরিয়ালের জন্য খুব বেশিক্ষণ বসতে হলো না। ততক্ষণেও অনিক মুখ গুজে স্মার্ট ফোনে গেমস খেলে সময় কাটিয়েছে। মিসেস জেরিনের সিরিয়াল এলে তিনি ছেলেকেও ডাক্তারের চেম্বারে ডাকলেন। ইচ্ছে ফিজিও ডাক্তার যদি ছেলের চোখের কিছু ব্যায়াম শিখিয়ে দিতে পারে, যাতে ইলেকট্রিক গ্যাজেটের রে থেকে চোখটা অন্তত রক্ষা পায়।
অনিক অনিচ্ছে সত্ত্বেও মায়ের সাথে ডাক্তারের চেম্বারে ঢুকল। প্রথম কথা, অপরিচিত লোকের কথার উত্তর দিতে তার ইচ্ছে করে না। দ্বিতীয়ত, মায়ের যতসব অদ্ভুত কথা। চোখের ব্যায়াম করে চোখের জ্যোতি বাড়বে! কিন্তু সে চেম্বারের ভেতরে না গিয়ে পারল না। সাধারণত কোনো কিছুতেই সে না করে না।
মাঝ বয়সী ডাক্তারের কথাবার্তা অনিকের ভালো লাগল না। কেমন যেন নিজেকে নিয়ে হামবড়া একটা ভাব। অনিকের বয়স এই জন্মদিনে চৌদ্দ হবে কিন্তু ডাক্তারের কথাবার্তায় মনে হলো সে দুধের শিশু। ‘কি বাবু, সবসময় চোখের সামনে মোবাইল নিয়ে থাক। চোখের চশমায় তো তখন পাওয়ার আর ধরবে না। শুধু চোখের ব্যায়ামে তো হবে না। চোখকে রেস্টও দিতে হবে।’
অনিকের বেশি মেজাজ খারাপ হলো, যখন দেখল আম্মুও হে হে করে ডাক্তারের কথায় তাল মিলাচ্ছে। ডাক্তার আম্মুর হাত ধরে বার কয়েক ব্যায়াম করিয়ে দিলেন। কিসব জেলটেল দিয়ে ঘষে দিলেন। তারপর পড়লেন তাকে নিয়ে।
(চলবে)