তেরো.
ওইজা বোর্ডের উপরে রাখা তার হাতের আঙুলগুলো কখনো এক চুলও নড়েনি। আজ রাতই ওইজা বোর্ড দিয়ে ভূত বা মৃত আত্মা নামানোর মোক্ষম সময়। সবচেয়ে ভালো হতো রাতে ওইজা বোর্ডটাকে ছাদের গলায় দড়ি দেওয়ার ওখানটাতে নিয়ে যেতে পারলে। তাহলে আত্মা আসার সুুবিধে হতো। কিন্তু ছাদে যদি আসতে পারে, দোতলায়ও আসতে পারবে। মৃত আত্মারা সব জায়গায় অবলীলায় যেতে পারে!
রাত একটু গভীর হওয়ার জন্য অনিক অপেক্ষা করতে লাগল। কারণ হঠাৎ হঠাৎ করে রুমের দরজা ঠেলে সারপ্রাইজ দেওয়ার স্বভাব মায়ের আছে। ঘুমানোর আগে একবার এসে দেখে যায়। অনিক গুগলে ওইজা বোর্ড দিয়ে ভূত নামানোর প্রক্রিয়ায় সার্চ দিলো। আর তখনই মা কথা বলতে বলতে অনিকের রুমের দিকে এলেন। অনিক বুঝতে পারল মা বিদেশে বাবার সাথেই ভিডিও চ্যাটে কথা বলছেন।
অনিকের একটু অভিমান হলো। প্রথমে ভাবল বাবার সাথে কথা বলবে না। কিন্তু সে ঠিক অভিমানও দেখাতে পারে না। ভাবে কি দরকার! বাবা হয়তো তার অভিমানটা বুঝবেই না!
অনিক বাবার সাথে ভিডিও কলে কথা বলতে লাগল। ‘তোমার বার্থডের বিশেষ পার্সেলটা এখনো হাতে পাওনি, তাই না?’
অনিক দুদিকে মাথা নাড়ল।
‘আমার উপরে রেগে আছো? কথা বলবে না? আমার মতো বড় হও, একটা গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পাও তখন দেখতে পাবে চাইলেই যা ইচ্ছে তাই করা যায় না। (চলবে)