ষোলো.

তার একটু একটু মনে আছে, মুভি নাটকেও দেখেছে ব্যাপারটা তবুও ভালোভাবে করার জন্য সে পদ্ধতিটা পড়ে নিলো। ওখানে এক জায়গায় লেখা আছে অনির্দিষ্ট আত্মাকে না ডেকে নির্দিষ্ট আত্মাকে ডাকলে কাজ আরো বেশি হয়!
মোবাইলে রাত বারোটার এক মিনিট আগে এলার্ম দিয়ে রেখেছিল অনিক। রাত বারোটা মানে জিরো আওয়ার। জিরো আওয়ার মানে জীবিত এবং মৃতদের স্থান বদলের সময়, যেমন আছে নো ম্যানস ল্যান্ড। এই সময় দিন ও রাতের পট বদলায়, জীবতদের স্থান দখল করে মৃতেরা!
ঠিক রাত ১২টার এক মিনিট আগের এলার্মের ভাইব্রেশনের সাথে সাথেই অনিক রুমের সব লাইট অফ করে দিয়েছিল। একটা মোমবাতির আলোয় ওইজা বোর্ডের বাটনে হাত রেখে সে ধাতস্থ হলো। চোখ বন্ধ করে মৃদু স্বরে বিড়বিড় করে বলতে লাগল, ‘কোনো অতৃপ্ত আত্মা যদি আশপাশে থাকুন, সাড়া দিন, সাড়া দিন, সাড়া দিন।’ কোনো কাজ হলো না। বাটন যেভাবে ছিল, সেভাবেই স্থির রইল। শেষমেশ অনিক আবার আহ্বান জানাল, ‘গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করা সুমির আত্মা যদি আশপাশে থেকে থাকো, সাড়া দাও, সাড়া দাও।’ তাতেও কাজ হলো না। অনিকের মনে হলো অত বড় করে না বলে শুধু সুমির আত্মা সাড়া দাও বললে কাজ হয় কিনা। সে আবার আহ্বান জানাল, ‘সুমির আত্মা সাড়া দাও, সাড়া দাও, সাড়া দাও।’
(চলবে)