জানো তো, বাংলার প্রকৃতিতে তমাল দুর্লভ, তবে দুষ্পাপ্য নয়। তমালের নীল ছায়া যেন কবি জীবনানন্দ দাশেরই সৃষ্টি। তার রূপসী বাংলায় তমালের কথা বলতে গিয়ে লিখেছেন, ‘মধুকর ডিঙা থেকে না জানি সে কবে চাঁদ চম্পার কাছে/এমনি হিজল-বট-তমালের নীল ছায়া বাংলার অপরূপ রূপ।’ তমালের তরুরূপকে তুলনা করা হয়েছে শ্রীকৃষ্ণের রূপের সাথেও। সে জন্য কিছু প্রাচীন তমাল বৃ এখনো টিকে আছে পূজ্য হয়ে বেনাপোল পাঠবাড়ী আশ্রম, ঠাকুরগাঁও গোবিন্দজীউ মন্দির, দিনাজপুর রাজবাড়ী কালিয়া কান্তজীউ মন্দির প্রাঙ্গণে। তমাল আছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহের বোটানিক্যাল গার্ডেনেও। তবে বাংলা প্রকৃতির চেয়ে সাহিত্যেই যেন হিজল-তমালের ঠাঁই বেশি। তমালের ইংরেজি নাম Mottled ebony, উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম Garcinia xanthochymas, পরিবার Guttiferae. তমালের বেশ কিছু নাম আছে- তমালক, নীলধ্বজ, তাপিষ্ণু, কলতান, মহাবর, পীলতাল, কালস্কন্দ ইত্যাদি। তমালগাছের কাণ্ড খাটো, ঘনকালো, অমসৃণ, আঁকাবাঁকা ও গিঁটযুক্ত। শাখা প্রশাখা ছড়ানো, কচি প্রশাখা লতার মতো দোলায়মান, গাছ ছত্রাকৃতি, ঝোপাল, বিস্তৃত ও চিরসবুজ। গাছের মাথা পত্রঘন এবং ছায়াময়ী। পাতার রঙ সবুজ, বল্লমাকৃতি ও নিচের দিকে অবনত। ফুল সাদা, ুদ্র ও সুগন্ধযুক্ত। বসন্তকাল ফুল ফোটার শ্রেষ্ঠ সময়। পাকা ফল গোলাকার হলুদ রঙের, দেখতে ছোট গাবের মতো। ফল থেকে এক ধরনের অম্লীয় পানীয় তৈরি করা যায়। এমনকি কাঁচা ফল কেটে শুকিয়ে ‘আমকুল’ নামে বাজারে বিক্রি হয়। শুকনো ফলের শরবত হয়। বীজ থেকে মাখনের মতো ‘কোকন বাটার’ তৈরি হয়। তমালের আদি নিবাস বার্মা (মিয়ানমার)।
