আঠারো.
পড়িমড়ি করে টেবিল থেকে উঠে ছুটে দরজা খুলে বাইরে যাওয়ার আগে সুইচ বোর্ডের সুইচ অন করল। মুহূর্তেই বৈদ্যুতিক সাদা আলোয় ভরে গেল ঘর এবং অনিক চারিদিকে তাকিয়ে দেখল কোথাও কিচ্ছু নেই, কেউ নেই। থাকার কথাও নয়। আলোতে ভূত থাকে না। সিলিং ফ্যান একেবারে নিশ্চল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, ভূমিকম্পের সময়ের মতোও দুলছে না। টেবিলের উপর ওইজা বোর্ডটা যেন তার সাথে ঠাট্টা করছে। এমনকি বোর্ডের উপরে বাটনটা পর্যন্ত একেবারে স্টার্টিং পয়েন্টেই আছে। এক সুতোও নড়েনি। অনিক টেবিলের উপরে রাখা পেট বোতল থেকে ঢকঢক করে পানি পান করল। আর তখনই তার টেবিলের পাশের জানালার দিকে নজর গেল। থাই গ্লাসটা পুরোপুরি আটকানো না। ইঞ্চিখানিক খোলা আছে। এবং সেই ইঞ্চি খানিক জায়গা দিয়েই দমকা বাতাস এসে মোমবাতি নিভিয়ে দিয়েছে।
ছুটে মায়ের রুমে যাওয়ার ইচ্ছেটা দমন করল অনিক। বৈজ্ঞানিক বাবার ছেলে হয়ে মনকে এতটা অবৈজ্ঞানিক করলে চলে না, যেখানে সবকিছুর স্পষ্ট ব্যাখ্যা বিদ্যমান। অনিক সাহসে ভর করে জানালার গ্লাস লাগানোর আগে অর্ধেকটা খুলে বাইরে উকি দিলো। পাশের ভবনের কারণে আকাশ দেখা না গেলেও বাইরের স্ট্রিট লাইটকে ছাপিয়ে চাদের আলো চরাচর ভাসিয়ে দিচ্ছে। হিম হিম হাওয়ায় শীতের পরশ। চারিদিকে কেমন যেন নিঃস্তব্ধতার গান। আর তখনই অনিকের পরাণ কাপিয়ে দিয়ে অপার্থিব শব্দ শুনতে পেল, কেউ যেন বিকৃত গলায় ডাকছে ‘এ্যাই মেয়ে, এ্যাই মেয়ে, এ্যাই মেয়ে! খ্খোলো, ক্কোলো, ক্কোলো, ম্যাওয়োয়ে...’
(চলবে)
আঠারো.পড়িমড়ি করে টেবিল থেকে উঠে ছুটে দরজা খুলে বাইরে যাওয়ার আগে সুইচ বোর্ডের সুইচ অন করল। মুহূর্তেই বৈদ্যুতিক সাদা আলোয় ভরে গেল ঘর এবং অনিক...
