একুশ.
অনিক চোখ কচলাতে কচলাতে ড্রয়িংরুমে এসে দেখতে পেল ফেডএক্সের হলুদ কার্টন সোফার সামনে রাখা আছে। বেশ বড়সড়ো কার্টন। দু’হাতেও বেড় পাওয়া যায় না এতটা বড়। অনিক কোনো মতে জিনিসটাকে জড়িয়ে ধরে উঁচু করে তুলল। দেখতে যতটা বড়, ওজন ততটা ভারী নয়। ইলেকট্রনিক জিনিস ওরকমই হয়। সে খুব সাবধানে একটু নাড়াচাড়া করে বুঝতে পারল ভেতরে একটা নিরেট জিনিস নয়, কয়েকটা জিনিস আছে। কার্টনের ওপরে লাগানো স্টিকার পড়ে বোঝার চেষ্টা করল ভেতরে কী আছে বোঝা যায় কি না। বরাবরের মতো কিছুই বোঝা গেল না। এটা কোম্পানি পলিসি। ভেতরে জিনিস কী আছে তা যাতে না জানা যায়। তবে এক পাশে ফ্রাজাইল বা ভঙ্গুর লেখা দেখে বুঝতে পারল কাচ বা প্লাস্টিক জাতীয় কিছু হবে।
মিসেস জেরিন ড্রয়িংরুমে এসে ছেলেকে ওরকম কসরৎ করতে দেখে এক গাল হেসে বললেন, ‘বাইরে থেকে অতো গবেষণা না করে জিনিসটা খুলে দেখ ভেতরে কী এলো। হয়েছে বাবার মতো, সব কিছুই নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট। নিজের জীবন নিয়েও!’
বাসায় অনেক অনলাইন প্রোডাক্ট আসে। এগুলোর ঝামেলাপূর্ণ প্যাকেজিং খুলতে হয় বলে মা আলাদা একটা বক্সে কাচি, ছুরি, নেইল কাটার, ব্লেড একসাথে করে রেখেছে। মার সব কাজই গোছানো। অনিক বেশ আয়োজন করে টাইলসের ঠাণ্ডা ফ্লোরের ওপরে বসে পড়ে খুব সাবধানে কার্টনটা খুলতে লাগল। ভঙ্গুর লেখাটাই তার এত সাবধানতার কারণ।
(চলবে)
একুশ.অনিক চোখ কচলাতে কচলাতে ড্রয়িংরুমে এসে দেখতে পেল ফেডএক্সের হলুদ কার্টন সোফার সামনে রাখা আছে। বেশ বড়সড়ো কার্টন। দু’হাতেও বেড় পাওয়া যায় না এতটা বড়।...
