চৌত্রিশ.
মাথার মধ্যে একমাত্র সন্তান ড্রাগ অ্যাডিক্ট হওয়ার সম্ভাবনা মাথা চাড়া দিয়ে উঠল। অনিক দরজার বাইরে বেরিয়ে যেতেই তিনি তড়াক করে সোফা থেকে উঠে পড়লেন। দরজার কাছে গিয়ে ভেতর থেকে লক করে দিলেন। তারপর চলে এলেন অনিকের রুমে। অনিক যদি সত্যি সত্যিই ড্রাগ অ্যাডিক্ট হয়ে থাকে তাহলে কোনো না কোনো ক্লু অনিকের রুমে পাওয়া যাবে। একজন নেশাখোর সবসময়ই তার চিহ্ন রেখে যায়। তাই সে গন্ধেই হোক আর তামাকেই হোক!
অনিকের রুমে এসে মিসেস জারিনের মনে হলো এ এক অন্য দুনিয়ায় এসে পড়েছেন। এ যেন সাইন্স ফিকশানের কোনো দুনিয়া। এত এত ইলেকট্রনিক গ্যাজেট ঘর জুড়ে। টেবিলের উপর থেকে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, স্পিকারটা সরিয়ে নিচে রেখেছে বলে আরো বেশি গ্যাজেটের জঙ্গল মনে হচ্ছে। এতগুলো ইলেকট্রিক গ্যাজেটের মধ্যে হঠাৎ করে বেডের উপর ওইজা বোর্ডের দিকে নজর যাওয়ায় একটু অবাক হলেন মিসেস জেরিন। এগুলোর মধ্যে জিনিসটাকে তার কাছে কেমন জানি বেমানান মনে হচ্ছে। এত এত ডিজিটাল জিনিসের সাথে ভূতপ্রেত নামানোর এই জিনিস যায় না। অনিক কি ভূত প্রেত চর্চা করছে নাকি? নাকি জিনিসপত্র গোছাতে গোছাতে ওর বাবার পাঠানো এই জিনিসটা চোখে পড়েছে। গত ছয় বছরে ছেলের জন্য ছেলের বাবা এত হাবিজাবি জিনিস পাঠিয়েছে! থ্রিডি গগলস থেকে আজকের আসা হলোগ্রাফিক প্রজেক্টর!
(চলবে)