সাঁইত্রিশ.

অনিকের মাথার মধ্যে তখন অন্য জিনিস খেলছে। কাল রাতে দাদী বড় চাচীদের কাজের মেয়ের আত্মহত্যা এবং বড় চাচারা টাকা পয়সা দিয়ে মিটমাট করে ফেলার কথা বলছিল। রাতে ছাদের সামান্য দরজা খোলা দেখে বড় চাচীর চিল্লাপাল্লা এবং সাথে সাথে বাইরে গিয়ে নতুন তালা কিনে এনে লাগানো সব কিছুর মধ্যেই কেমন যেন একটা রহস্যের গন্ধ পাওয়া যেতে লাগল। অনিক ইতস্তত করে বলল, ‘একটা কথা বলব বড় চাচী? গতকাল সন্ধ্যা রাতে না আমিই ছাদে গিয়েছিলাম। আমার এক বন্ধু বলছিল ছাদ থেকে নাকি স্টেডিয়ামের লেজার শো দেখা যাবে। তাই উঠেছিলাম। কিন্তু ভয় পেয়ে তড়িঘড়ি করে নেমে গেছি। দরজা দিতে মনে নেই চাচী। সরি।’
ভয় পাওয়ার কথা শুনে বড় চাচীর চোখ কেমন বড় বড় হয়ে গেল। তো তো করে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কি দেখে ভয় পেয়েছিলি?’
অনিক ভয়ার্ত স্বরেই বলল, ‘পানির ট্যাংকির সিঁড়ির উপর থেকে একটা মেয়ের মতো কিছু একটা ঝুলছিল। বাতাসে নড়ছিল। আমার চোখের ভুলও হতে পারে। হয়তো কারোর জামাটামা শুকাতে দেওয়া ছিল।’
বড় চাচীকে ফ্যাকাশে মুখে রেখে অনিক ছাদে ওঠে গেল। (চলবে)