ঊনচল্লিশ.
এই দুপুর বেলাতেও অনিকের একটু ভয় ভয় করতে লাগল। ভয়টা কেমন যেন অন্যরকম ভয়।
এই ছাদে এ জীবনে এতবার এসেছে কখনো এমন ভয় করেনি। তার যেন মনে হতে থাকে সে যদি কোনোভাবেই ছাদের কিনারা বা রেলিংয়ের ধারে যায়, তাহলে অশরীরী কোনো আত্মা তাকে ধাক্কা দিয়ে রেলিংয়ের এপাশ থেকে নিচে ফেলে দেবে। এই ভয়ে আড়ষ্ট হয়েই অনিক ছাদের দরজা খুলে রেলিংয়ের দিকগুলো এড়িয়ে সোজাসুজি পানির ট্যাংকির কাছে চলে এলো এবং মনের ভেতরে এই ভয় দানা বাঁধা ছিল বলেই বোধ হয় পানির ট্যাংকির সিঁড়ির দিকে তাকাতেই সে আবার ঝুলন্ত সেই মেয়েটাকে দেখতে পেল। কিন্তু এরকম ভর দুপুরে ব্যাপারটা হজম করতে অনিকের যেন বিবেকে বাঁধল। সে পানির ট্যাংকির পাশ গলে ঠিক সিঁড়ির সামনে এসে দেখতে পেল কোনো মেয়ে-টেয়ে ঝুলছে না। ও দিকটা রোদের পিঠ করা থাকে বলে কেউ মেয়েলি সালোয়ার কামিজ ম্যাক্সি জাতীয় কাপড় শুকোতে দিয়েছে। অনিক জায়গাটা ভালো করে দেখার জন্য বিশেষত দাদীর ভাষ্যমতে যে জায়গা থেকে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল, সেই স্পটটা খুঁটিয়ে দেখার জন্য যখনই আবার লোহার রেলিংয়ের সিঁড়ি বেয়ে উপরে ঠিক ওই জায়গাটায় উঠেছে, তখনই অনিকের মনে হলো কেউ একজন এসেছে! (চলবে)