বলছি সিগিরিয়ার কথা। বর্তমানে এটি বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। এই স্থানের অবস্থান শ্রীলঙ্কায়। সিগিরিয়ার কোলাহল থেমে গেছে সেই কবে। এখন এটি ধ্বংসস্তূপ। কঙ্কালসার কিছু স্থাপনা টিকে আছে কালের সাক্ষী হয়ে। একসময় এটি ছিল একটি নগরী। কেন্দ্রীয় প্রদেশের মাতালে জেলার সিগিরিয়া একটি সাংস্কৃতিক ত্রিভুজের অন্তর্ভুক্ত, যেখানে রয়েছে দেশটির সাতটি বিশ্ব ঐতিহ্য স্থানের পাঁচটি।
সিগিরিয়ায় রয়েছে একটি টিলা দুর্গ এবং রাজপ্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ। একে ঘিরে আছে সমন্বিত বাগান, জলাধার ও অন্যান্য স্থাপনা।
সিগিরিয়া একটি জনপ্রিয় পর্যটক-আকর্ষকস্থল। প্রাচীন চিত্রকর্মের জন্যও এর খ্যাতি আছে। ভারতের অজন্তার গুহাচিত্রের সাথে এখানকার চিত্রকর্মের সাদৃশ্য দেখা যায়।
সিগিরিয়া টিলা দুর্গ-প্রাসাদ নির্মাণ করেছিলেন রাজা কাস্যপা। এটি ৫ শতকের ঘটনা। টিলার ওপরের সমতলে রয়েছে উচ্চ প্রাসাদ, মধ্যভাগের কয়েকটি ধাপে সংযুক্ত করা হয়েছে সিংহ দরজা ও আয়না দেয়াল। এ আয়না দেয়ালের মস্তোদক (ফ্রেসকো) অপূর্ব। টিলার নিচের ধাপে রয়েছে নিম্ন প্রাসাদ ও গড়খাই। উচ্চ প্রাসাদে রয়েছে একটি জলাশয়। টিলা কেটে গভীর করে এ জলাশয় নির্মাণ করা হয়েছে, যা এখনো বেশ ভালো অবস্থায় রয়েছে। নিম্ন প্রাসাদকে ঘিরে থাকা গড়খাই ও দেয়ালগুলো এখনো অনিন্দ্য সুন্দর।
সিগিরিয়া প্রথম সহস্রাব্দের গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পিত শহরায়িত স্থানগুলোর একটি। এ স্থান খুবই সম্প্রসারিত এবং সৃষ্টিশীল কাজ হিসেবে বিবেচিত।
সিগিরিয়ার ইতিহাস প্রাচীন। পাঁচ হাজার বছর আগেও স্থানটির অস্তিত্ব ছিল। খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতকে বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা এর পশ্চিম ও উত্তর ঢালে বসতি গড়ে তুলেছিল। এরপর রাজা কাস্যপা এখানে দুর্গ ও প্রাসাদ গড়েন। কাস্যপার মৃত্যুর পরে এখানে আবার মঠ গড়ে ওঠে, যা টিকে থাকে ১৪ শতক পর্যন্ত।
এরপর সিগিরিয়ার পতন হয়।
১৯০৭ সালে ব্রিটিশ অভিযাত্রী জন স্টিল সিগিরিয়ার ধ্বংসস্তূপ আবিষ্কার করেন।
প্রতিদিন অনেক মানুষ সিগিরিয়ায় আসেন। ১৯৮২ সালে এটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য স্থানের মর্যাদায় ভূষিত হয়।
