আটান্ন.

অনিক দৌড়াতে দৌড়াতে সিড়ি ভাঙল। নিজেদের বন্ধ দরজায় একটানা পাঁচ-ছয়বার কলিংবেল চাপল। আম্মু বিরক্ত মুখে দরজা খুলে দিয়ে অনিককে হাপাতে দেখে জিজ্ঞেস করলেন, ওভাবে হাপাচ্ছিস কেন? ভূতে তাড়া করেছে নাকি?’
অনিক কোনো উত্তর না দিয়ে ডাইনিং টেবিলের উপরে রাখা মাল্টিপ্লাগটা হাতে তুলে নিলো। তারপর নিজের রুমের দিকে যেতে যেতে বলল, আম্মু, আমি খাব না। খেয়ে এসেছি। বড় চাচীর ওখানে।’
মিসেস জেরিন একটু ভুরু কুচকালেন। ব্যাপার কি? আজ এত সমাদার! কখনো তো মনের ভুলেও ডাকে না। ‘ডেকে নিয়ে গিয়ে খাইয়ে ছাড়ল! কি রে হঠাৎ জামাই আদর!’
আম্মু! ভালো হবে না বলছি!’ অনিক নিজের রুমে ঢুকে পড়ল।
আম্মু তাও ওপাশ থেকে শয়তানি করতে ছাড়লেন না। ‘তা ডেকে নিয়ে কি এমন রাজভোগ খাওয়াল? আমার জন্য পকেটে করে একটু নিয়ে আসতে পারতিস!’
কি যে খেয়েছে মনে করতে পারল না। তবে রাজভোগ যে নয় সেটুকু মনে আছে। হঠাৎ করে অনিকের মনে হলো, সবাই যে রাজভোগ খাওয়ার কথা বলে, রাজভোগটা আসলে কি? তাতে কী কী থাকে?
মাল্টিপ্লাগটা পাওয়ার পর আবার সব কিছু নতুন করে সেট করতে গিয়ে অনিকের প্রায় ঘণ্টাখানিক লেগে গেল।
(চলবে)