ষাট.
অনিকের নিজেকেই যেন এই যন্ত্র তৈরির বিজ্ঞানী বলে বোধ হতে থাকে।
যেকোনো জিনিসই, তা সে ছবিই হোক আর নাম, মানুষ নিজের নামটাই আগে দেখতে চায়। অনিকও তার ব্যতিক্রম নয়। সে হলোগ্রাফিক এক্সপোজারের জন্য ল্যাপটপে নিজের একটা ফুল সাইজ ছবি দিয়ে দিলো। ছবিটা মায়ের সাথে বেড়াতে গিয়ে তোলা। সিঙ্গেল ছবি। শীতের ছবি। একটা মেরুন রঙা সোয়েটার পরনে। অনিক ল্যাপটপের স্ক্রিন থেকে ছবিটা অনেকটা প্রিন্টার অপশনের মতোই হলোগ্রাফিক ক্যামেরা অপশনে গিয়ে আপলোড করে দিলো। এবার ক্যামেরার মতো যন্ত্রটার স্ক্রিনের উপর ভেসে উঠল অনিকের ছবি। সবচেয়ে মজার ব্যাপার ল্যাপটপের চেয়ে এই ক্যামেরাযন্ত্রের স্ক্রিনে তাকে অনেক বেশি অন্যরকম লাগছে। যেন সে শূন্যের উপর, নিরেট জলের উপর ভাসছে। মজাই লাগল তার কাছে। একটা অপশন দিয়ে ছবিটাকে রোটেট করে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখল। তারপর টাচ ক্যামেরার যন্ত্রেরও ওখানে থ্রিডি অপশনে টাচ করতেই অনিকের দ্বিমাত্রিক ছবি ত্রিমাত্রিক ছবিতে রূপান্তরিত হতে শুরু করল। অনিক বুঝতে পারল, মূলত ল্যাপটপের সাথে লাগানো চৌকানো ইঞ্চি আস্টেকের স্ক্রিনওয়ালা এই যন্ত্রটাই মুলত মানুষের দ্বিমাত্রিক ছবিকে ত্রিমাত্রিক করে ওটার একটা অবয়ব প্রজেকশন যন্ত্রের মাধ্যমে শূন্যে প্রতিস্থাপন করে। (চলবে)