বলছি বর্ষাকালের দূত সম্পর্কে। তোমরা কি এ দূত চেনো? নিশ্চয়ই চেনো। কদম ফুলকে বর্ষাকালের দূত বলা হয়। বর্ষাকালে বিশাল বিশাল কদমগাছে ডালে ডালে আলো হয়ে প্রচুর ফুল ফোটে। ফুলগুলো ঠিক ছোট ছোট বলের মতো মনে হয়। কদমের মিষ্টি গন্ধে চার দিক ম ম করে।
কদমগাছ বেশ উঁচু হয় এবং এর বহু শাখা-প্রশাখা থাকে। ডাল সোজা। বাকলের রঙ ধূসর থেকে প্রায় কালো। পাতা বেশ বড় ও ডিম্বাকৃতির।

রঙ উজ্জ্বল সবুজ। আর ফুলের রঙ সাদা-হলুদে মেশানো। আমরা যাকে ‘কদম ফুল’ বলি তা আসলে বহু ফুলের সমষ্টি। মাঝখানে থাকে গোলাকার পুষ্পাধার এবং এর গায়ে ফুলগুলো লেগে থাকে। ভেতরের ফল মাংসল ও টক। কদম ফল বাদুড় ও কাঠবিড়ালির প্রিয় খাদ্যের একটি। বলা যায়, তারাই কদমের বীজ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছড়িয়ে বংশ বৃদ্ধি করে।
কদমগাছের কাঠ নরম। তেমন শক্তপোক্ত নয়। এ জন্য সাধারণত কদমের কাঠ জ্বালানি হিসেবেই ব্যবহৃত হয় বেশি। তবে কদমগাছের কাঠ ম্যাচের কাঠি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বৈজ্ঞানিক নাম অ্যান্থোসেফেলাস ইন্ডিকাস (Anthocephalus indicus)।