ছেষট্টি.
নিকষ কালো অন্ধকারে ডুবে যাওয়া ঘরে অনিকের মনে হলো কিছু একটা বা দুইটা নড়াচড়া করছে।
অনিক অন্ধকারের মধ্যে চোখ সইয়ে যখনই কি নড়াচড়া করছে সেটা উপলব্ধি করার চেষ্টা করছিল তখনই হঠাৎ আলেয়ার মতো জ্বলে ওঠা আলোয় সে ভয়ে কেঁপে উঠল। আলোর সাথে সাথে শব্দও। ঘোর লাগা চোখে অন্ধকারে সে বুঝে উঠতে পারছিল না কি হচ্ছে! তারপর যখনই বুঝতে পারল ওটা অশরীরি অতিপ্রাকৃত কিছু নয়, তার স্মার্ট ফোনের আলো ও শব্দ তখনই যেন অনিক সম্বিৎ ফিরে পেল।
দুর্বল পায়ে হেঁটে বেডের উপরে রাখা মোবাইলটার কাছে চলে এলো। আম্মুর ফোন। আম্মুর এই এক রোগ আছে। যেখানে গলা উঁচিয়ে ডাকলেই শোনা যায়, সেখানে এক ঘর থেকে আরেক ঘরে ফোন দেওয়া চাই।
অনিক ফোন ধরল। কাঁপা কাঁপা গলায় বলল, ‘আম্মু, ফোন করেছ কেন?’
‘তুই যে ঘুমাচ্ছিলি না তা বুঝতে পারছি। ট্রান্সফর্মার বার্স্ট হওয়ার শব্দ শুনেছিস?’
‘হুঁ।’ অনিক কোনোমতে বলল।
‘মনে হয় না আজ রাতে আর কারেন্ট আসবে। যে শব্দ হয়েছে। আর আমরা তো কোনো ভিআইপি এলাকায় থাকি না যে কোনো ভিআইপি ফোন করে দিলো আর অমনি কারেন্ট চলে এলো।’
(চলবে)
