বলছি কলমের ইতিকথা। জেনে রাখা ভালো, কলমের ইতিহাস প্রায় ৫ হাজার বছরের। ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে কলমের রূপান্তর ঘটেছে। এখন তোমরা উন্নত কলম দিয়ে লিখছ। প্রায় ৭০ থেকে ৮০বছর আগেও আমাদের দেশে কিছু ক্ষেত্রে প্রচলিত ছিল কঞ্চি বা নলখাগড়ার কলম আর লেখার জন্য ছিল কাঠ, কয়লার কালি ও তালপাতা।
তোমরা জানো, কলম মানে লেখনী। বলতে পারো, কারা প্রথম কলম দিয়ে লেখা শুরু করে? প্রাচীন মিসরীয়রা প্রথম কলম দিয়ে লেখা শুরু করে। সে সময় অবশ্য কোনো কাগজ ছিল না। তারা লিখত বিভিন্ন গাছের পাতা ও বাকলের ওপর। কলম হিসেবে ব্যবহার করা হতো নলখাগড়া, শর বা বেণু বাঁশের কঞ্চি অথবা ফাঁপা খণ্ড। এসব খণ্ড কলমের মতো করে কেটে সূচালো করে তা কালির মধ্যে চুবিয়ে লেখা হতো। কালিও ছিল গাছের কষ ও নানা রকম প্রাকৃতিক উপাদানে প্রস্তুত। এভাবে চলে বহু শতাব্দী। ৫ শতক থেকে কঞ্চি বা নলখাগড়ার জায়গা দখল করে পাখির পালক। রাজহাঁসের পালক ছিল সে যুগে কলম তৈরির প্রধান উপকরণ। পালককে শক্ত করে তার গোড়া বা মাথা সূক্ষ্মভাবে সূচালো করা হতো যাতে লিখতে আরাম হয়।
মধ্যযুগে পাখির পালকের মোটা গোড়ায় কালি লাগিয়ে সেটাই কলমের মতো করে লেখা হতো।
প্রাচীন পুঁথিও লেখা হতো এভাবে। এরপর আসে কলমের আধুনিক যুগ। ১৮ শতকে এসে স্টিলের নিবযুক্ত আদি রূপের ঝরনা কলম আবিষ্কৃৃত হয়। সেসব কলম আর কালিতে চুবিয়ে লিখতে হতো না, কলমের মধ্যেই থাকত স্বল্প পরিমাণে কালির ভাণ্ডার। এ রকমই একটা কলম দিয়ে ১৭৮৭ সালে আমেরিকার সংবিধান স্বাক্ষরিত হয়েছিল।