বলছি চীনের ক্ষুদ্র একটি জাতি অ্যাচাংদের কথা। এদের জনসংখ্যা প্রায় ২৯ হাজার । এর ৯০ শতাংশের বেশি বাস করে দক্ষিণ-পশ্চিম য়ুনান প্রদেশের দেহং দাই-জিংপো স্বশাসিত প্রশাসনিক এলাকার লংচুয়ান, লিয়াংহি ও লুক্সি জেলায়। বাকিদের বসবাস প্রতিবেশী বাওশাং প্রশাসনিক এলাকার লংলিং জেলায়।
অ্যাচাং অধ্যুষিত সবক’টি এলাকার অবস্থান গাওলিগং পর্বতমালার দক্ষিণ প্রান্তের ছোট এক ফালিতে। এখানকার আবহাওয়া হালকা গরম। ভূমি উর্বর। অ্যাচাং এলাকাগুলোয় এঁকেবেঁকে বয়ে গেছে দেয়িং ও লংচুয়ান নদী এবং এদের শাখা-প্রশাখা। অনেক সমতলভূমি রয়েছে নদী উপত্যকায়। এখানকার ঘন বনে রয়েছে হরিণ ও ভালুক।
অ্যাচাংদের আবাসভূমি কয়লা, লোহা, তামা, সিসা, অভ্র ও গ্র্যাফাইটে সমৃদ্ধ।
অ্যাচাংদের ভাষার নামও অ্যাচাং। এটি চীনা-তিব্বতি ভাষাগোষ্ঠীর তিব্বতি-মিয়ানি শাখার অন্তর্ভুক্ত। এরা চীনা ও দাই ভাষায়ও কথা বলতে পারে। এ জাতি লেখাপড়া করে চীনা ভাষায়।
অ্যাচাংরা চীনের নৃতাত্ত্বিক সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীগুলোর একটি। এদের সংস্কৃতি বেশ সমৃদ্ধ। কাহিনীসংবলিত গান, গল্প, লোককাহিনী ও রূপকথায় অ্যাচাংরা বেশ আগ্রহী। বাঁশ-কিন (বাঁশের তৈরি একতন্ত্রী বাদ্যযন্ত্র), বাঁশের বাঁশি, হস্তিপায়া ঢোল ও গং এদের প্রধান বাদ্যযন্ত্র। অ্যাচাং সমাজে অনেক নাচ প্রচলিত। তবে বানরনাচ সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়।

অ্যাচাং পুরুষরা নীল, সাদা কিংবা কালো জ্যাকেট পরে। নারীরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে রুপার অলঙ্কার পরতে পছন্দ করে। এদের পোশাক অঞ্চলভেদে বিভিন্ন রকম হয়। সাধারণত বিবাহিত নারী স্কার্ট ও জ্যাকেট পরে এবং মাথায় বাঁধে কালো বা নীল কাপড়ের পট্টি। জ্যাকেটের হাতা থাকে টাইট। অবিবাহিত মেয়েরা পাজামা পরে এবং মাথার চুলে বেণী বাঁধে।
অ্যাচাংরা দেয়ালঘেরা ইট বা পাথরের তৈরি বাড়িতে বাস করে, যেগুলোতে কাঠের কড়ি (বিম) ব্যবহার করা হয়।
অ্যাচাংদের প্রধান খাবার ভাত। টকজাতীয় খাবার এরা খুব পছন্দ করে। শুঁটকিও এদের বেশ পছন্দ। অ্যাচাং এলাকাগুলোর ধান ক্ষেতের পানিতে প্রচুর মাছ পাওয়া যায়। এরা এ মাছ ধরে শুঁটকি বানায়। এরা হলুদ মদ ও কোহল পান করে।
অ্যাচাংরা দয়ালু, শান্ত ও উষ্ণ হৃদয়ের অধিকারী হলেও কামারের কাজে দক্ষ। এরা লোহা গলিয়ে বিভিন্ন অস্ত্র, বিশেষ করে কাটাকাটির হাতিয়ার তৈরি করে।
অ্যাচাংরা বিভিন্ন ধরনের উৎসব পালন করে। এগুলোর মধ্যে মশাল উৎসব ও জলছিটানো উৎসব প্রধান। মশাল উৎসবে আলোকসজ্জা করে বেশি ফসল উৎপাদনের প্রার্থনা করা হয়। জলছিটানো উৎসবে বিয়ের জন্য সঙ্গী বাছাইয়ের কাজ চলে। উৎসবগুলোয় সুস্বাদু খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।
অ্যাচাংরা বৌদ্ধধর্ম, তাওবাদ, সর্বপ্রাণবাদ ও পূর্বপুরুষের পূজায় বিশ্বাসী।