ঊনাশি.

বন্ধুদের বাসায় টাসায় যেতে হবে বলে ওদের পার্মানেন্ট ড্রাইভার সাগরকে নিয়ে বের হলো। টুকটাক যাতায়াত ওরা রিকশাতেই সারে। বড় চাচা নিজের গাড়ি নিজেই ড্রাইভ করে ড্রাইভারের পয়সা বাঁচায়। মেজো চাচা চাচী এই গাড়ি নিয়ে অফিসে গিয়েই ড্রাইভারকে দিয়ে গাড়ি ফেরত পাঠায়। তারপর অনিকের স্কুল, দাদার বেড়ানো, মোট কথা লক্কড়ঝক্কড়মার্কা পুরানো আমলের গাড়িটা সারাদিন চলার উপরেই থাকে।
গাড়িতে উঠতে উঠতে মিসেস জেরিন অল্পবয়সী ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘গাড়িটা সারাদিনই লাগতে পারে। আব্বা, আম্মা কোথাও বের হতে চেয়েছিলেন নাকি?’
সাগর দু’দিকে মাথা নাড়ল। ‘এখনো তো কিছু বলেনি। আপনারা চলেন। দরকার হলে আমি উবারের ব্যবস্থা করে দেব।’ সাগর এদের নিতে চায়। কারণ ছোট ভাবীর দরাজ হাত। বাইরে গেলে খাওয়ায়। না হলে খাওয়া বাবদ একশ টাকা দেয়। সাগর সেই টাকাটা বাঁচায়।
গাড়ি নিয়ে সরকারি মানসিক হাসপাতালের সামনে আসতে দেখে অনিক যারপরনাই অবাক হলো। আম্মু এখানে এসেছে কেন? তাহলে আম্মুর কি কোনো মানসিক সমস্যা চলছে। কিন্তু তার তো কখনো তেমন কিছু চোখে পড়েনি। অবশ্য বড়দের অনেক ব্যাপারস্যাপার চোখে পড়া বা বোঝার মতো বয়স তার এখনো হয়নি। (চলবে)