বলছি মধুর কথা। এটি এক বিস্ময়কর প্রাকৃতিক উপাদান। সুদূর অতীত থেকেই একে খাদ্য, পানীয় বা জটিল রোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সাধারণভাবে এটি পুষ্টিকর ও শক্তিবর্ধক পানীয় হিসেবে ব্যবহার করা যায়। আধুনিক ফার্মাকোলজিক্যাল গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, মধু হৃদ-পেশির কার্যক্রম বাড়িয়ে রক্তনালী প্রসারণের মাধ্যমে রক্ত সঞ্চালনে সহায়তা করে এবং পেশির কার্যক্রম স্বাভাবিক করে রোগ প্রতিরোধ করে। ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স ও ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ হওয়ায় এটি স্নায়ু ও মস্তিষ্কের কলা সুদৃঢ় করে। অনেকের মতে, মধু এক প্রকার ওষুধ, আর এর রয়েছে পচননিবারক (অ্যান্টিসেপটিক) এবং কোলেস্টেরল ও ব্যাকটেরিয়াবিরোধী ধর্ম। একটি গবেষণায় জানা যায়, এটি নিউমোনিয়া, টাইফয়েড ও আমাশয়ের জন্য দায়ী জীবাণু ধ্বংস করতে পারে।
ইউনানি চিকিৎসকেরা বিভিন্ন রোগে মধু ব্যবহার করেন। যেমন- পাকস্থলী ও অন্ত্রের রোগ, কোষ্ঠকাঠিন্য, অম্লাধিক্য, মুখের প্রদাহ, চোখের বিভিন্ন রোগ, স্নায়ুরোগ, রক্তপ্রবাহের অবরুদ্ধতাজনিত হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপ, ত্বকের বিভিন্ন রোগ ইত্যাদি। মধু সর্দি, কাশি, টাইফয়েড, জ্বর, নিউমোনিয়া ও আমাশয়ে উপকারী।
পবিত্র কুরআন ও হাদিস শরিফে মধুর গুণাগুণ সম্পর্কে বলা হয়েছে। মধু সম্পর্কে কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘এবং তোমার প্রতিপালক মধুমক্ষিকাকে প্রত্যাদেশ করেছেন যে, পর্বতমালা ও বৃক্ষসমূহ এবং উচ্চস্থানে মধুচক্র নির্মাণ করো। তাদের উদর থেকে বিবিধ বর্ণবিশিষ্ট পানীয় নির্গত হয়ে থাকে। তন্মধ্যে মানব সমাজের জন্য নিরাময় রয়েছে। নিশ্চয়ই এতে চিন্তাশীল সমাজের জন্য (আল্লাহর কুদরতের) নিদর্শন রয়েছে।’ -সূরা নহল : ৬৮ ও ৬৯ আয়াত।
মহানবী সা:-এর মতে, সব পানীয় উপাদানের মধ্যে মধু সর্বোৎকৃষ্ট। গ্রিক চিকিৎসক হিপোক্রেটস বিভিন্ন ধরনের রোগ নিরাময়ে মধু ব্যবহার করতেন। তিনি মধুকে অতিরিক্ত খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করারও পরামর্শ দেন। কারণ এটি খাদ্যমান বাড়ায়। গ্যালেন মধুর ঔষধি গুণাগুণ বর্ণনা করেছেন। তিনি এর বিষবিরোধী ধর্মও উল্লেখ করেছেন। তার মতে, মধু আন্ত্রিক রোগে উপকারী। খ্যাতিমান চিকিৎসক ইবনে সিনা, আনতাকি ও ইবনুল আল-বায়তার মধুর ঔষধি গুণ সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাদের মতে, মধু শরীরের বিভিন্ন ধরনের নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং উষ্ণতা বৃদ্ধি করে। এটি ক্ষুধা ও স্মৃতিশক্তি বাড়ায় এবং শোষক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।