একটি ঝাড়–র কথা শোনো, যার নাম ছিকি বা সিকি। বরেন্দ্র অঞ্চলে বসবাসরত সাঁওতাল সম্প্রদায় এটি ব্যবহার করে। এরা সুপ্রাচীনকাল থেকে ঐতিহ্যবাহী এই বিশেষ ধরনের ঝাড়– ব্যবহার করে আসছে। সাঁওতালদের ঘরবাড়ি-উঠান ইত্যাদি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এদের ঐতিহ্যের অংশ। তাই এরা এই বিশেষ ধরনের ঝাড়– ব্যবহার করে মাটির ঘরদোর খুবই পরিচ্ছন্ন করে রাখে। শুধু ঝাড়– দিয়েই নয়, এরা সুন্দর করে ঘরদোর লেপে রাখে, বিভিন্ন রঙের মাটির প্রলেপ দিয়ে দেয়ালে ফুল-লতার আল্পনা আঁকে। এ জন্য প্রতিটি সাঁওতাল গৃহ অনেক সুন্দর দেখায়।
আমাদের দেশে সাধারণত নারকেলপাতার শলা, ছন, উলুঘাস ও ফুলঝাড়–গাছ থেকে ঝাড়– তৈরি করা হয়। কিন্তু বরেন্দ্র অঞ্চলের সাঁওতালেরা ঝাড়– তৈরি করে বিন্নাঘাস থেকে। সেসব ঝাড়–র গড়ন ও তৈরির কৌশলও আলাদা। বরেন্দ্রভূমির পতিত জমিতে বিন্নাঘাস জন্মে। বিন্নাঘাসের গাছ কেটে রোদে শুকিয়ে শলার মতো করা হয়। সোনালি হলুদ রঙের সেসব শুকনো ঘাসের গাছ একটা একটা করে সুন্দর পাটির মতো বিছিয়ে তার গোড়া বিশেষ ধরনের বুনুনি দিয়ে বাঁধা হয়। প্রায় এক-দেড় হাত লম্বা সেটা দেখতে ঝালরের মতো দেখায়। পরে গোড়ার অংশ মুড়ে বা পেঁচিয়ে আর একটা সুতো দিয়ে বাঁধা হয়। তখন সেটা ঝাড়–তে পরিণত হয়। ইচ্ছে করলে যেকোনো সময় সেসব ঝাড়–র সুতোর বাঁধন খুলে ঝাড়– পরিষ্কার করা যায়। এসব ঝাড়– সাঁওতালদের প্রত্যেক গৃহস্থ বানাতে পারে, ছিকি বাজারে কিনতে পাওয়া যায় না। এখনো সাঁওতালরা এদের এই ছিকির ঐতিহ্য ধরে রেখেছে।
একটি ঝাড়–র কথা শোনো, যার নাম ছিকি বা সিকি। বরেন্দ্র অঞ্চলে বসবাসরত সাঁওতাল সম্প্রদায় এটি ব্যবহার করে। এরা সুপ্রাচীনকাল থেকে ঐতিহ্যবাহী এই বিশেষ ধরনের ঝাড়–...
