একশত চার.
হলোগ্রাফিক প্রজেক্টরে সে ছাড়াও মানহা, তামিম আর সেতুর ছবি ঢোকানো হয়েছিল। প্রজেক্টর বন্ধ করা হলেও এই ইমেজগুলো রয়ে গেছে পৃথিবীতে, নির্দিষ্ট করে বললে তার রুমে। বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে যা পুরোপুরি অসম্ভব, শুধু ভৌতিক ব্যাখ্যায় সম্ভব। অনিকের মনে হলো প্রজেক্টর থেকে বের হওয়া হলোগ্রাফিক ইমেজগুলো নিজস্ব সত্তা ধারণ করে নিজেরাই পৃথিবীতে বিচরণ করে বেড়াচ্ছে। ঘুমে চোখ জড়িয়ে আসতে আসতে অনিকের আবছায়াভাবে মনে হলো, চার হলোগ্রাফিক মূর্তি নিজেদের মধ্যেই যেন বাতচিৎ সারছে, যেন কোনো ষড়যন্ত্র করছে। অনিক ওদের কোনো কথাই শুনতে পেল না। শুধু ওদের অঙ্গভঙ্গি দেখে বুঝতে পারল ওরা বিশেষ কিছু একটা নিয়েই নিজেদের মধ্যে কথা বলছে এবং মাঝে মাঝে সেই বিশেষ কিছুটার দিকে তাকাচ্ছে।
অনিক ওদের দৃষ্টি অনুসরণ করে সেই বিশেষ কিছুটার দিকে তাকিয়ে মৃত সুমিকে রুমের এক কোণে জবুথবু হয়ে বসে থাকতে দেখতে পেল। শুধু সুমির মুখটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না, মাথার চুলগুলো মুখের সামনে মুখ ঢেকে দিয়ে একটা ভৌতিক অবয়ব তৈরি করেছে।
একটা উৎসবের আমেজ বোধ হয় আরেকটা উৎসবের আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়!
অনিকের জন্মদিনের উৎসব শেষ হতে না হতেই বড়চাচার ছেলে শিহাব ভাইয়ার বিয়ের জন্য তোড়জোড় চলতে লাগল। (চলবে)