জানো, লোহিতাভ চিরসবুজ গাছ। ছোট বৃক্ষের ডালপালা মাটির একটু উপর থেকেই বাড়তে দেখা যায়। পাতা খুব ঘন ঝোপালো বলে গাছের নিচটা অন্ধকার ছায়াচ্ছন্ন থাকে আর ফুলকে খুঁজে দেখতে হয়। পাতা যৌগিক, ১০ থেকে ১৪টি পত্রকবিশিষ্ট, বোঁটা ছোট, অগ্রভাগ সূঁচালো। ফুল না ফোটা পর্যন্ত গাছের পাতা দেখে অশোক বৃক্ষ বলেই মনে হয়। বসন্তকালই ওর ফুল ফোটার আসল সময়। থোকা থোকা লাল ফুল ডালের অগ্রভাগে ফোটে এবং ডালগুলো ফুলের ভারে নুয়ে আসে। অনেকগুলো ফুল একসাথে মঞ্জরীতে গোলাকার সজ্জায় ফোটে। ফুলের পাঁপড়ির সংখ্যা ৫টি, মুক্ত ও আকর্ষণীয়। পাঁপড়িগুলো অসমান। পুংকেশরের সংখ্যা ১১-১২টি। পুংকেশরগুলো পাঁপড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। পুংকেশরের মাথায় পরাগধানীতে আলগা হলুদ রেণু থাকে। ছোঁয়া দিলেই লেগে যায়। এর প্রায় ১০টি প্রজাতি রয়েছে, তবে এদেশে খুব একটা চোখে পড়ে না। লোহিতাভের উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম Brownea coccinea এবং পরিবার সিসালপিনিয়েসী। প্রজাতির নাম পাঁপড়ির লাল রঙ থেকেই এসেছে। ফুলটির জন্ম জ্যামাইকা, আদি নিবাস মধ্য আমেরিকা হলেও এখন এ অঞ্চলেও বিভিন্ন উদ্যানে রোপণ করা হচ্ছে। সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ উদ্যানে গাছটি আছে। উদ্যান পথের ধারে লোহিতাভ মানানসই। বাগানের রাস্তা থেকে তিন-চার হাত দূরে এ গাছ লাগাতে হয়। ফুলের প্রাচুর্যে যেসব শাখা নুয়ে পড়ে সেরকম ডালে গুটি কলম করে লোহিতাভের চারা তৈরি করা যায়। বর্ষাকাল এর চারা লাগানোর উত্তম সময়।
ছবি: লেখক, সাভার জাতীয় স্মৃতি সৌধু