গাজায় ইসরাইলের বোমাবর্ষণকে জার্মানির কুখ্যাত ‘আউশউইৎজ’ ক্যাম্পের সাথে তুলনা করেছেন ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের (ইউসিএল) এক শিক্ষক। লন্ডনে ফিলিস্তিনের পক্ষে এক সমাবেশে ওই মন্তব্য করেন ইউসিএলের নৃবিজ্ঞানের সহযোগী অধ্যাপক অ্যালেক্স পিলেন।
৫৪ বছর বয়সী পিলেনের জন্ম বেলজিয়ামে। গত ১১ নভেম্বর প্রায় তিন লাখ মানুষের এক সমাগমে গাজায় ইসরাইলের বোমাবর্ষণকে আউশউইৎজ ক্যাম্পের সাথে তুলনা করে গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতির দাবি জানান তিনি। ইভনিং স্ট্যান্ডার্ডকে পিলেন বলেন, ‘মূলত এখানে আমার আসার কারণ হলো, আমি মনে করি, যে অবস্থা চলছে, তা আসলেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি মানবতার অবমাননা। গাজায় আজ যা হচ্ছে, তা আউশউইৎজের চেয়ে খারাপ, বাগেন-বেইজেন বন্দিশিবিরের চেয়েও বাজে। এর অবস্থা দাহও ক্যাম্পের চেয়েও জঘন্য; লুবলিন ক্যাম্পের চেয়েও খারাপ।’
ইসরাইলের হামলাকে মানবতার জন্য লজ্জার মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমি এখানে আছি, কারণ আমি ব্রিটেনেই থাকি। গাজার যুদ্ধে বিবিসির অবস্থান নিয়ে আমি লজ্জিত। সংবাদমাধ্যমটি পক্ষপাতদুষ্ট। রাজনৈতিক একটি সঙ্ঘাতের প্রতি বিবিসি পক্ষপাতদুষ্ট।’ নাৎসি বাহিনীর এসব ক্যাম্পের সাথে গাজার চিত্রকে তুলনা করেই তদন্তের মুখে পড়েছেন অধ্যাপক পিলেন। তবে তার বক্তব্য কাউকে আঘাত করলে তার জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি। এক বিবৃতিতে পিলেন বলেন, ‘আমি যুদ্ধ-সঙ্ঘাতের বিষয়ে একজন স্কলার। সব ধরনের বর্ণবাদ এবং ইহুদি বিদ্বেষের সম্পূর্ণ বিরোধিতা করি। আমি বিশ্বাস করি, আমার কথাগুলো ইহুদি বিদ্বেষের সাথে মেলানো হবে না।’
পিলেনের বক্তব্যের পর এক বিবৃতিতে ইহুদি বিদ্বেষের অভিযোগ তুলে নিন্দা জানায় ইউসিএল। ইউসিএলের প্রেসিডেন্ট ও প্রভোস্ট মাইকেল স্পেন্স বলেছেন, আমরা সব ধরনের ইহুদি বিদ্বেষের নিন্দা করি এবং আমাদের কমিউনিটিকে স্পষ্ট করে দিয়েছি, ইউসিএলে এটি সহ্য করা হবে না। আমাদের কাছে আসা অভিযোগগুলো তদন্ত করছি। এর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থাও নিচ্ছি।’