গাজায় ইসরাইলি হামলার চেয়ে রোগবালাইয়ের কারণে বেশি মানুষ মারা যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার যদি উন্নতি না হয় তবে বর্তমান পরিস্থিতি আরো জটিল হবে বলে জানিয়েছে জাতিসঙ্ঘের এই সংস্থাটি। ডব্লিউএইচও বলছে, জ্বালানি ও বিশুদ্ধ পানির সঙ্কটে পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ দেখা দিচ্ছে গাজায়। বিশেষ করে শিশুরা এসব রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বেশি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, গাজায় ইসরাইল যে আগ্রাসন চালায় তাতে অপর্যাপ্ত ত্রাণ, জ্বালানি সঙ্কটের মতো আরো সমস্যা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এতে করে দীর্ঘদিন অনাহারে থেকে, বিশুদ্ধ পানির অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন গাজাবাসী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মুখপাত্র মার্গারেট হ্যারিস মঙ্গলবার বলছেন, আমরা যদি স্বাস্থ্যব্যবস্থা ঠিক না করতে পারি তাহলে এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি হবে যেখানে দেখা যাবে গাজায় বোমা হামলার তুলনায় রোগব্যাধিতে মানুষের বেশি মৃত্যু হচ্ছে।
তিনি গাজার সবচেয়ে বড় হাসপাতাল আল শিফার সাম্প্রতিক পরিস্থিতিকে ভয়াবহ বলে বর্ণনা করেছেন। সেই সাথে হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর যে নৃশংসভাবে নির্যাতন করেছে ইসরাইল সে বিষয়েও মুখ খোলেন ওই মুখপাত্র। গাজায় সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব, বিশেষ করে ডায়রিয়াজনিত রোগের প্রাদুর্ভাবের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন ওই মুখপাত্র। গাজায় বাস্তুচ্যুত বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার ওপর জাতিসঙ্ঘের একটি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, সেখানে কোনো ওষুধ, টিকাদান কার্যক্রমের ব্যবস্থা নেই। নিরাপদ পানিও নেই, স্বাস্থ্যবিধিও অনেক নাজুক।
উল্লেখ্য, গাজায় সব স্যানিটেশন সেবার কাজ এখন বন্ধ রয়েছে। যার ফলে কলেরাসহ বিভিন্ন রোগের প্রার্দুভাব দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ২৩ লাখ মানুষের জন্য (অর্ধেক শিশু) বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখন পর্যন্ত ৪৪ হাজার ডায়রিয়া এবং ৭০ হাজার শ্বাসনালীর সংক্রমণে আক্রান্ত রোগীর রেকর্ড করেছে যার প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি। সংস্থাটি বলছে, শীতকালের বৃষ্টি ও বন্যার মতো ভয়াবহ দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরো দুর্বল করে তুলবে।
ইউনিসেফের মুখপাত্র জেমস এল্ডার ভিডিওবার্তায় বলেন, হাসপাতাল শিশুতে পরিপূর্ণ। তারা সবাই পেটের সমস্যায় ভুগছে। তাদের কোনো বিশুদ্ধ পানিরও উৎস নেই। এর ফলে পঙ্গুত্ব দেখা দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের শান্তিপ্রক্রিয়া বিষয়ক জাতিসঙ্ঘের বিশেষ প্রতিনিধি টর ওয়েনেসল্যান্ড মানবিক এই পরিস্থিতিকে বিপর্যয়কর বলে সতর্ক করেছেন। গাজার মেয়র ইয়াহিয়া আল-সিরাজ বলেছেন, জ্বালানি ছাড়া পানি পাম্প করা সম্ভব হচ্ছে না। রাস্তায় জমে থাকা বর্জ্যতে নানা রোগব্যাধি দেখা দিচ্ছে। এ দিকে যুদ্ধবিরতি দু’দিন বাড়ানো হলেও গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, উত্তরের হাসপাতালে জেনারেটরের জন্য এখনো কোনো জ্বালানি পাওয়া যায়নি।
যুদ্ধ শুরুর পর ৩,২৯০ ফিলিস্তিনি গ্রেফতার
এদিকে আলজাজিরা প্রকাশিত খবর জানা যায়, ইসরাইল-হামাসের মধ্যে সমঝোতায় চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় প্রথম চার দিনের হিসাবে ১৫০ জনের মতো ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দিয়েছে ইসরাইল। তবে বন্দিবিনিময় চলাকালেও ফিলিস্তিনিদের গ্রেফতার অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল। ওই চার দিনে পূর্ব জেরুসালেম ও পশ্চিমতীর থেকে কমপক্ষে ১৩৩ ফিলিস্তিনিকে বন্দী করা হয়েছে। ফিলিস্তিনি প্রিজনার অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, চার দিনে ইসরাইল পূর্বজেরুসালেম এবং পশ্চিমতীর থেকে কমপক্ষে ১৩৩ ফিলিস্তিনিকে গ্রেফতার করেছে।
যেসব ফিলিস্তিনি কারাবন্দীকে মুক্ত করেছে তাদের মধ্যে ১১৭ জন শিশু এবং ৩৩ জন নারী। এ বিষয়ে ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স সোসাইটির মুখপাত্র আমানি সারাহনেহ আলজাজিরাকে জানিয়েছেন, যতদিন ইসরাইলি দখল থাকবে, গ্রেফতার বন্ধ হবে না। ৫৬ বছর ধরে চলা আসা দখলদারিত্বের ভিত্তিতে ইসরাইলের সেনারা ফিলিস্তিনিদের বাড়িতে রাতে অভিযান চালিয়ে গড়ে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ জনকে গ্রেফতার করে। ফিলিস্তিনি পর্যবেক্ষণ সংস্থা বলছে, ৭ অক্টোবর থেকে পশ্চিমতীর এবং পূর্বজেরুসালেমে তিন হাজার ৯২০ জন ফিলিস্তিনিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
৭ অক্টোবর থেকে হুট করে ফিলিস্তিনি বন্দীর সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যায়। ইসরাইলের হাতে বন্দী ফিলিস্তিনির সংখ্যা গত মাসে ৫,২০০ থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ১০ হাজারে। এর মধ্যে চার হাজার শ্রমিক রয়েছেন যারা গাজায় কর্মরত ছিলেন।
গাজায় ইসরাইলি হামলার চেয়ে রোগবালাইয়ের কারণে বেশি মানুষ মারা যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার যদি উন্নতি না হয় তবে বর্তমান পরিস্থিতি...
