২০১৮ সালের নয়া দিগন্তের ০৪ মে তারিখের পেছনের পাতার ছোট্ট একটি খবর। ভালো করে নজর না দিলে চোখে পড়ার মতো নয়। সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ এ কারণে যে, এটিতে আমাদের শিক্ষার্থীদের নৈতিক স্খলন দর্পণের মতো বিষয় প্রতিবিম্বিত হয়েছে। সংবাদটি হুবহু এরূপ : ‘পরীক্ষার হলে অন্যায় আবদার রক্ষা না করায় এইচএসসি পরীক্ষার শেষ দিনে গতকাল বৃহস্পতিবার পরীক্ষা শেষে নোয়াখালী মহিলা কলেজ কেন্দ্রে পুলিশের উপস্থিতিতে ব্যাপক ভাঙচুর করেছে পরীক্ষার্থীরা। জানা গেছে, নোয়াখালী মহিলা কলেজ কেন্দ্রে গতকাল গণিত দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র হাতে দেয়ার পর পরীক্ষার্থীরা তাদের সুবিধাজনক স্থানে পাশাপাশি বসা, এক শিক্ষার্থী থেকে অন্য শিক্ষার্থীর দেখে লেখাসহ ব্যাপক দাবি জানিয়ে আসছিল হলে দায়িত্বে থাকা পরিদর্শকের কাছে। কিন্তু পরিদর্শকরা এতে রাজি না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ক্ষিপ্ত হয় এবং পরীক্ষার শেষ পর্যায়ে চিৎকার দিতে শুরু করে। পরীক্ষা শেষে একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা মহিলা কলেজে এলোপাতাড়ি ভাঙচুর চালায়। পরে পুলিশ এসে আট পরীক্ষার্থীকে গ্রেফতার করে। নোয়াখালী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আক্তারী বেগম বলেন, পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষার্থীরা অন্যান্য দাবি জানায়। কিন্তু তা না রাখায় ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশের সামনে ৪০ মিনিট কলেজের একে একে ১৬ কক্ষের দরজা-জানালাসহ সব কিছু ভেঙে ফেলে। তিনি বলেন, শিক্ষকদের কক্ষটিও রেহাই পায়নি। আক্তারী বেগম আরো বলেন, এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে, এ খবর আমাদের কাছে ছিল। আমি বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়েছি। কিন্তু তারা কোনো সহযোগিতা করেনি এবং ভাঙচুরের সময়ও বারবার ফোন করেছিলাম। ঘটনার পর পুলিশ এসে কয়েকজনকে গ্রেফতার করে। সুধারাম মডেল থানার ওসি আনোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনার সাথে জড়িত আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ এজহার দিলে মামলা রুজু করা হবে।’ পরীক্ষার্থী, প্রশাসন ও পুলিশ বটে!
একই দিনের একই পত্রিকার সামনের পাতায় লাল অক্ষরের লিড খবর ‘সীমান্তে ইয়াবা অপ্রতিরোধ্য’। খবরের প্রথম প্যারাটি এ রকম : ‘মহামারী রূপ নিয়েছে মাদক ইয়াবা। শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে গ্রামের আনাচে কানাচে পর্যন্ত বিস্তার ঘটেছে নীরব এই ঘাতক ইয়াবা ট্যাবলেটের। সীমান্তে শক্তিশালী সিন্ডিকেট ইয়াবা কারবারের নিয়ন্ত্রণ করছে। এদের নেপথ্যে রয়েছে সামাজিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পৃষ্ঠপোষকতা যে কারণে কোনোভাবেই এর আগ্রাসন রোধ করা যাচ্ছে না। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধ্বংস করে মাদক কারবারের এই সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার কোটি টাকা।’ হালে নারী-শিশুর শ্লীলতাহানির মহোৎসব চলছে। এমন খবর পত্রিকায় হরহামেশাই বেরোচ্ছে। কিন্তু এর কোনো নিদান নেই। পরীক্ষায় নকল, প্রশ্নপত্র ফাঁস, মাদক, নারী-শিশুর শ্লীলতাহানি, মুনাফাখোরি- এ-জাতীয় রোগ উঠতি ও বিগত প্রজন্মের নৈতিকতাহীনতার ফল যার বীজ পরীক্ষা কেন্দ্রের নকল প্রবণতায় রোপিত। এর সব ক’টাই সমান কলঙ্ক। আণবিক বোমার মতো বিধ্বংসী। মানুষ আজ হতাশাগ্রস্ত।
জাতীয় জীবনে আমাদের শুরুটাও ভালো ছিল না। দেশের সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করতে গিয়ে ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির তদানীন্তন সভাপতি ড. মাযহারুল হক তার জীবনের শেষ ভাষণে সমাজের ক্ষতগুলো পর্যালোচনা করতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘আরেকটা মহাগুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো শিক্ষাব্যবস্থার চরম দুর্গতি। এ দুই বছরে ছাত্র প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নানা জাঁকজমকপূর্ণ সম্মেলন ও সমাবেশে কোটি টাকার বেশি খরচ করেছে বলে আমার ধারণা এবং এ সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এবং পরীক্ষা কেন্দ্রে যা ঘটেছে, তা দেখে আমার দৃঢ় ধারণা হচ্ছে যে, ছাত্র ও শিক্ষার সম্পূর্ণ বিচ্ছেদ ঘটেছে। এর প্রতিকার কী? অথচ আমরা প্রতিদিন শুনছি ‘আমাদের সোনার বাংলা গড়তে হবে’। কারা গড়বে, বলুন? সোনার বাংলা নিশ্চয়ই গড়া হয়েছে কিছু সংখ্যক লোকের জন্য’ (পলিটিক্যাল ইকোনমি, ১৯৭৪, ভলিউম ০১, সংখ্যা ০১, পৃষ্ঠা ০৫-০৬)। অপরাধপ্রবণতা তো পরীক্ষা কেন্দ্রে নকলবাজি থেকেই শুরু। এর ধারাবাহিকতা এখনো চলছে। তারা আজ পরিণত বয়সে অভিভাবক হয়ে শিক্ষাব্যবস্থা ও জাতির বারোটা বাজিয়েছে। আজ দেশের শিল্প-কারখানায় শ্রমিকদের উপরের লেভেলে কাজের জন্য নিজ দেশের ভেতর থেকে উপযুক্ত দক্ষ জনশক্তি তেমন পাওয়া যাচ্ছে না। সেসব লেভেলে বিদেশীরা কাজ করছে। কেবল ভারতীয়রাই বছরে পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার নিয়ে যাচ্ছে। অন্য দেশীয়রা তো আছেই।
তাই শিক্ষা ক্ষেত্রে আজ যা ঘটছে তা নতুন কিছু নয়। আগেই বলেছি, স্বাধীনতার ঊষালগ্নে যার সূত্রপাত ঘটেছিল তারই ধারাবাহিকতা মাত্র। সে সময়ে একমাত্র ভারত ছাড়া পাশ্চাত্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা ছাত্রছাত্রীদের ভর্তি করা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছিল। মুনাফার স্বার্থে পাশ্চাত্য সে নিষেধাজ্ঞা আজ শিথিল করলেও সে পাপের কাফ্ফারা আমরা আজো দিচ্ছি। আর কতকাল তা দিতে হবে, জানি না। সরকারের কর্তাব্যক্তিরা, যাদের অনেকেই সে সময়ের এবং হয়তো সে ধরনের ছাত্রছাত্রী ছিলেন, তারা কেবল পরীক্ষার রেজাল্ট দেখেই খুশি। আর কিছুই দেখেন না- এরা কোনো কাজে লাগে তাও না। তাই নোয়াখালী মহিলা কলেজ কেন্দ্রের ঘটনাটি কোনো একক বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় এবং তা জেনে আমি মোটেও বিস্মিত হইনি। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে এমনটি প্রায় সর্বত্রই এবং সর্বদাই কমবেশি রুটিনমাফিক ঘটছে এবং ঘটে আসছে। পত্রিকায় সব আসে না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই যেমন অভিভাবক তাদের তেমন সন্তানরা পরীক্ষা দিচ্ছে- যেমন বীজ তেমন ফল হচ্ছে। আমার অভিজ্ঞতায় এর জন্য আমাদের অর্থলোলুপ বিভিন্ন লেভেলের শিক্ষকরাও কম দায়ী নন। তাই মনে হয়- এটি আজ আর কোনো খবরই নয়, তাই বুঝি খবরটা শেষের পাতায় উপেক্ষণীয়ভাবে মুদ্রিত হয়েছে।
১৯৮৩ থেকে ২০০৩ অবধি মফস্বলের করটিয়া সা’দত কলেজ, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ, চাঁদপুর কলেজে শিক্ষকতা করেছি এবং অল্প ক’দিন কুমিল্লা মহিলা সরকারি কলেজে ভাইস প্রিন্সিপালের দায়িত্ব পালন করেছি কিন্তু সেখানে কোনো পরীক্ষা পাইনি। ঢাকার বাইরে দেশের প্রায় সব কলেজের মতো বিভিন্ন স্তরের পরীক্ষা এসব কলেজে কেমন হতো সে বিষয়ে আমার বহুবিচিত্র অভিজ্ঞতা হয়েছে। সব বলে শেষ করা যাবে না। ঢাকার তিতুমীর কলেজ, ঢাকা কলেজ ও জগন্নাথ কলেজ- এ তিনটি কলেজেও আমার অভিজ্ঞতা সুখকর ছিল না। এসব কলেজের অভিজ্ঞতার আলোকে এ প্রজন্মের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্পর্কে কিছু মন্তব্য করতে চাই। আগেই বলে রাখি, মন্তব্যগুলো ঢালাওভাবে নেয়া হয়তো ঠিক হবে না। ব্যতিক্রম নিশ্চয়ই কিছু ছিল এবং আছে। তবে সে সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে আজ এতদূর বলা হয়ত ভুল হবে না ‘যেমন বীজ তেমন ফল হয়’। সে সময়ে শুধু ওসব কলেজেই নয়, দেশের কমবেশি প্রায় সব কলেজেই একই ধরনের পরীক্ষা হতো। তাই বীজের সন্ধানই আমার এ নিবন্ধের উদ্দেশ্য। এ কথা বলছি এ কারণে যে, আজ শিক্ষার বিভিন্ন পর্যায়ে যে ধরনের ন্যক্কারজনক পরীক্ষা হচ্ছে তার বীজ কিন্তু স্বাধীনতার ঊষালগ্নেই উপ্ত হয়েছে, যা সমাজকে সার্বিকভাবে কলুষিত করে ফেলেছে। এ প্রসঙ্গে আবার বলব, আগে কেবল সা’দত কলেজের একটি অভিজ্ঞতাটির কথা বলি।
দেশে তখন এরশাদ সাহেবের মার্শাল ল চলছে। সা’দত কলেজে বিভিন্ন বিষয়ে সম্মান তৃতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হয়েছে। আমরা পাঁচজন দোতলার একটি কক্ষে পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করছি। তাদের মধ্যে আমি বয়োকনিষ্ঠ। একপর্যায়ে কক্ষের পেছনের দিকে দেখলাম, সাদাপেড়ে মিশকালো মিহি সুতির আনকোরা শাড়ি পরা এক প্রিয়দর্শিনী তরুণী খাতার নিচে রাখা কাগজ দেখে লিখছে। আমি এগিয়ে গিয়ে তার কাগজটি নিয়ে এলাম আর বললাম, সে যেন আর এমনটা না করে। সে থামল না। আবার একই কর্ম শুরু করল। এবার গিয়ে তাকে বললাম, ‘তোমার কাছে যা কাগজ আছে, দিয়ে দাও।’ সে তার হাতের কাগজটি আমার হাতে দিয়ে বলল, ‘আর নেই স্যার’। আমি তাকে বিশ্বাস করলাম না। বললাম, ‘আরো যা লুকানো আছে তাও দাও।’ সে তার শাড়ির পরিপাটি ভাঁজ থেকে আরো ক’টি কাগজ বের করে দিলো। সে মিথ্যা বলেছে। আমি চলে এলাম। মেয়েটি আবার কাগজ বের করে লিখতে লাগল। আমি এগিয়ে গিয়ে তাকে বললাম, ‘এ কলেজে মহিলা শিক্ষক আছেন। তুমি যদি স্বেচ্ছায় তোমার সব কাগজ আমার হাতে না দাও, তবে তাকে ডেকে তোমার বডি সার্চ করাব।’ সে তার শাড়ির গোপন পরিপাটি ভাঁজে সেফ্টি পিনে আঁটা ও শাড়ির নিচে ব্লাউজে আঁটা কাগজগুলো সব আমার হাতে দিয়ে দিলো। মেয়েটির সে দিন আর পরীক্ষা দেয়া হয়নি। কলম তুলে বসে রইল। আমি যখন কক্ষময় এ কাজে গলদঘর্ম, তখন আমার অপর চার সহকর্মী লেকচার স্ট্যান্ডের পাশে জড়ো হয়ে গল্পগুজব করছেন এবং একপর্যায়ে শুনতে পেলাম তাদের একজন বলছেন, ‘খালেদ সাহেব বাড়াবাড়ি করে।’ শিক্ষক হিসেবে পরীক্ষায় নকল প্রতিরোধ করাটা কি বাড়াবাড়ির পর্যায়ে পড়ে? সে সময়ে অনেক কলেজের মতোই এ কলেজে নকলের দায়ে কোনো পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করার রেওয়াজ ছিল না। প্রাইভেট কলেজগুলোতে যেখানে বেশির ভাগ ছেলেমেয়ে লেখাপড়া করে, সেখানে অবস্থা আরো খারাপ। সেখানে নকল ধরাই হয় না।
সেটা সম্ভবত ১৯৮৫ সাল। তখন যদি মেয়েটির বয়স ২০-২২ হয়ে থাকে তবে আজ সে ৫৫-৫৭ বয়সের মহিলা। এই একটি উদাহরণ দিয়ে বুঝাতে চাই, সে সময়ের এ জাতীয় শিক্ষার্থীরা আজকের শিক্ষার্থীদের মা-বাবা এবং জাতীয় জীবনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকাণ্ডে শামিল হয়েছেন। পাঠক, ভেবে দেখুন তাদের ছেলেমেয়েরা আজ নকল বা প্রশ্নপত্র ফাঁস ধরনের কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত হবে না কেন? এমন ব্যাকগ্রাউন্ডের অভিভাবকদের কাছ থেকে পারিবারিক, সামাজিক ও কর্মজীবনে আমরা দায়িত্বশীল এবং নৈতিক আচরণ বা দক্ষতা কী করে আশা করতে পারি? যে কাজেই তাদের নিয়োগ দেয়া হয় তারা ঘুষ খায়, তহবিল তছরুপ করে এবং নানাবিধ অপকর্ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে। এমন ব্যাকগ্রাউন্ডের অভিভাবকরা ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র সংগ্রহে টাকা ঢেলে নিজ সন্তানদের উৎসাহিত করবে না কেন? এ কারণেই বুঝি প্রতিদিনের জাতীয় দৈনিকের পাতাগুলো হরেক রকম দুঃসংবাদে ঠাসা। আমড়া গাছে কি আম ফলে? তাই যাবতীয় পরীক্ষায় বা জাতীয় জীবনে অশুভ যা ঘটছে তার উৎস সন্ধানে বীজের প্রকৃতি অনুসন্ধান জরুরি।
দেশে একটা সমস্যা না কাটতেই আরেকটার উদ্ভব হচ্ছে। আমরা বিগতটার বিহিত না করেই তা ভুলে নতুনটা নিয়ে লেগে পড়ি। এসব অনাসৃষ্টি উপর্যুপরি ঘটছেই। সমস্যার স্তূপ স্ফীত ও জটিল হচ্ছে। তাই নতুন রোগ ‘ইয়াবা মেন্যাস্’ প্রথম পাতায় লাল অক্ষরে হেড লাইন পেয়েছে আর এর জনক গা সওয়া ‘মেন্যাস্’ পরীক্ষায় নকলের খবরটি ছোট করে পেছনের পাতায় ছাপা হয়েছে। তবে নারী-শিশুর শ্লীলতাহানির খবরটি এখনো সামনের পাতায় ছাপা হয়। যেকোনো রোগের এই দুরারোগ্য দেশে আমরা ক’দিক সামলাব? সমস্যা বেড়েই চলেছে; কিন্তু কোনো সমাধান নেই। এর জন্য আমরা অবশ্যই জাতীয় নেতৃত্বকেই দায়ী করব। কারণ তাদের হাতেই যাবতীয় কলকাঠি কিন্তু তারাই বা কতটুকু পরিশুদ্ধ। সেটাও তো বিবেচনায় নিতে হবে। আমাদের চোখের সামনে কয়েকটি জেনারেশন নষ্ট হয়ে গেল। জাতি ৫০ বছর পার করল, তা শোধরাতে আমাদের হয়তো আরো ৫০ বছর লাগতে পারে যদি এখনই আমরা এ কাজে হাত দিই। কিন্তু সে লক্ষণ তো আমরা দেখতে পাচ্ছি না। এই নষ্ট প্রজন্মের নেতৃত্বের হাতে পরিশুদ্ধ প্রজন্ম গড়ে উঠবে কি? সেটাই ভাবার বিষয়।
লেখক : অর্থনীতির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও ভাইস প্রিন্সিপাল, হিলা সরকারি কলেজ, কুমিল্লা।
