এ যাবৎ বিশ্বের পরাশক্তিগুলোর তর্জনগর্জন দুনিয়াবাসী দেখেছে। দেখেছে সমরাস্ত্র প্রদর্শনের মহড়া। মাঝে মাঝেই পারমাণবিক শক্তিসম্পন্ন রাষ্ট্রগুলো তাদের মিসাইল উৎক্ষেপণের পরীক্ষা চালিয়ে নিজেদের শক্তি-সামর্থ্যরে কথা পৃথিবীকে জানান দিয়েছে। সেসব সমরাস্ত্র মানুষের ওপর প্রয়োগও হয়েছে অসংখ্যবার এবং এখনো ভাগ্যহত দেশগুলোতে তা হচ্ছে। উদ্দেশ্য একটাই, মানুষ হত্যা করা। করোনাভাইরাসও এসেছে মানুষ হত্যা করতে। করোনা অতিক্ষুদ্র একটি অণুজীব। অথচ এটা পৃথিবীর বহু মানুষকে হত্যা করছে। কোনো পরাশক্তির সাধ্য হচ্ছে না তাকে প্রতিরোধ করার। তর্জনগর্জন করা দাম্ভিক পরাশক্তিগুলো তার কাছে এখন নস্যি। অতএব প্রমাণিত হয়ে গেল, অস্ত্র ও বিজ্ঞানের অহঙ্কার মিথ্যা। তবু এ নিয়ে পৃথিবীতে অস্ত্রবাজি এবং অস্ত্রের বেচাকেনা হয়েছে। অহেতুক এই অস্ত্র ব্যবহার করে মানুষ মানুষের প্রাপ্য অধিকার কেড়ে নিয়েছে। করোনা প্রমাণ করে দিলো সেসব কিছুই অন্তঃসারশূন্য। পৃথিবীর বড়ছোট সব অস্ত্র করোনার কাছে আজ পরাজিত ও অকেজো। যদি স্বীকার করে নেয়া হয় পৃথিবীর সব সমরাস্ত্র অকেজো, তাহলে পরাজিতের বৈশিষ্ট্য হলো, আগে অস্ত্র সমর্পণ করা। অন্যথায় করোনা প্রতিরোধ সম্ভব হবে না। আহ্বান করি, আমাদের অস্ত্রগুলো সাগর মহাসাগরে ফেলে দিই। এই অস্ত্রশস্ত্রের উদ্দেশ্য যা, করোনার উদ্দেশ্যও তা-ই, মানুষ হত্যা করা। করোনা যদি মানুষের শত্রু হয় সমরাস্ত্রও মানুষের চরম শত্রু। এই দুই শত্রুরই বিনাশ হোক, তা সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা। যে অস্ত্র দিয়ে করোনা মেরে মানুষ বাঁচানো গেল না, সেই অস্ত্র দিয়ে মানুষ হত্যা করতে কি একটুও লজ্জা করবে না? করোনা প্রতিরোধে প্রতিষেধক তৈরি করার প্রস্তুতি চলছে। একই সাথে সমরাস্ত্র ধ্বংসেরও প্রস্তুতি নেয়া জরুরি। পৃথিবীব্যাপী একসাথে দাবি উঠুক, সবার সমরাস্ত্র ধ্বংস করা হোক। এ দাবি জোরদার না হলে মানুষ আর পশুর মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকে না।
করোনা আল্লাহর দেয়া গজব না মানবসৃষ্ট জীবাণু অস্ত্র, কে জানে। কেউ বলছেন, অসতর্কভাবে ল্যাব থেকে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। হতে পারে; ভাইরাসটি বিজ্ঞানীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। সেটিও আল্লাহর ইচ্ছায় হয়েছে হয়তো। এভাবে আল্লাহ তায়ালা অতীতে বহু জাতিকে শাস্তি দিয়েছেন। আর যদি বিজ্ঞানীর ইচ্ছায় করোনা ছড়িয়ে পড়ে থাকে, তাহলেও হয়তো মানুষকে সতর্ক করতে সেই বিজ্ঞানীর মাথায় আল্লাহর পক্ষ থেকে ‘কৌশল’ দিয়ে দেয়া হয়েছে, যা তিনি প্রয়োগ করার মাধ্যমে একটি ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি দেখতে চেয়েছেন। এ ভাইরাস আল্লাহ প্রদত্ত এ কারণে হতে পারে যে, ভাইরাসটির প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত ভয়ানক ও হৃদয়বিদারক। অতি নিষ্ঠুর এ ভাইরাসে কেউ মৃত্যুবরণ করেছেন, তার জন্য এবং তার আত্মীয়-স্বজনের জন্যও তা মর্মান্তিক। মুমূর্ষু ব্যক্তি খুব করে তার প্রিয়জনের সান্নিধ্য কামনা করে এবং প্রিয়জনও তার কাছে ছুটে যেতে চায়, তার সেবা শুশ্রƒষা করতে চায়। এ মমতা মানুষের হৃদয়ের সবচেয়ে বড় সম্পদ। অমূল্য এই সম্পদকে ছিন্ন ভিন্ন করে দিয়েছে করোনা। প্রিয়জন চোখের সামনে যন্ত্রণায় ছটফট করছেন, সবাই দেখছেন-শুনছেন, কিন্তু কিছুই করতে পারছেন না। এ দৃশ্য অনেক কষ্টের। করোনায় মৃত্যুর বেদনা সারা জীবন আত্মীয়স্বজনকে বহন করতে হবে। হাশরের ময়দানে সবাই সবার বিপদ দেখবে; কিন্তু কেউ কারো কোনো প্রকার উপকারে আসবে না। হতে পারে এটা আল্লাহর গজবের নিদর্শন। আসুন, অস্ত্র সমর্পণ করে মহান আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করি। আল্লাহ মানুষ সৃষ্টি করেছেন মানুষকে কষ্ট দেয়ার জন্য নয়। সব মানুষ সুখে থাকবে সেটিই আল্লাহর ইচ্ছা। অথচ কিছু মানুষ বেশির ভাগ মানুষের খাবার কেড়ে নিয়ে বিলাসিতা করে, অপচয় করে, অস্ত্র কেনে, অস্ত্র বানায়। এ পাষণ্ড নির্বোধরা সেই অস্ত্র ব্যবহার করে মানুষ হত্যা করে, সম্পদ লুটপাট করে পাশবিক উল্লাসে মেতে ওঠে। প্রধানত এদের সতর্ক করতেই পৃথিবীতে বারবার গজব আসে। হ
mojaffarh40@gmail.com