একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সবার অধিকার রয়েছে যার যার স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ করার, রয়েছে ভিন্নমতকে শ্রদ্ধা জানানো। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমাদের দেশের চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। কোনো মানুষ সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়। অথচ ফেসবুকে ক্ষমতাসীনদের নিয়ে লেখায় রাষ্ট্রচিন্তার সংগঠক দিদারুল ইসলাম ভূঁইয়া, লেখক মোশতাক আহমেদ, কার্টুনিস্ট কিশোরকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে গ্রেফতার করার রেশ কাটতে না কাটতেই সম্প্রতি মানিকগঞ্জে ৩৩ বছরের পলি আক্তারকে নিয়ে পুলিশ ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড করে। আমাদের আইন-কানুন কত স্ট্রং Ñভাবা যায়! অথচ সমাজবিধ্বংসী, দেশবিধ্বংসী পাচারকারী, লুটেরা, খুনিরা এই দেশে নিরাপদে ভিআইপি স্টাইলে ঘুরছে! দেশে যা চলছে তাকে কিভাবে গণতন্ত্র বলায় যায়? সরকার যত অন্যায় করুক, যত টাকা পাচার করুক, যত দুর্নীতি করুক কেউ কিছু বলতে পারবে না। বললে তাকে হয় গুম করা হয়, না হলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার দেখানো হয়।
সমাজের সচেতন, চিন্তাশীল ব্যক্তিরা সরকারের এই হয়রানির প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ডিজিটাল আইনে এভাবে বাসা থেকে তুলে নিয়ে গুম ও গ্রেফতারের বিরুদ্ধে সারা দেশে অ্যাক্টিভিস্টরা প্রতিবাদ বিক্ষোভ মানববন্ধন করে যাচ্ছেন । এই অন্যায় আর বেশি দিন চলতে দেয়া যায় না। তাই সরকারের উচিত সব বন্দীকে মুক্তি ও বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি বন্ধসহ নিপীড়নমূলক ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আইন-কানুন আর ব্যক্তিতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামোর মেরামত করে জনক্ষমতাকেন্দ্রিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা।
শ্যামলী, ঢাকা।