বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হচ্ছে বস্ত্র ও পোশাকশিল্প। দেশের মোট রফতানি আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশ আসে এই খাত থেকে, যা বাংলাদেশকে বিশ্বে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পোশাক রফতানিকারক দেশের মর্যাদা এনে দিয়েছে। প্রতি বছর বস্ত্র প্রকৌশলে বুটেক্স, কুয়েট, যবিপ্রবি ও বুটেক্স অধিভুক্ত কলেজগুলো থেকে প্রায় পাঁচ সহস্রাধিক শিক্ষার্থী স্নাতক সম্পন্ন করেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এত বড় শিল্পের উন্নয়ন ও পরিচালনার জন্য দেশে এখনো স্বতন্ত্র টেক্সটাইল ক্যাডার নেই। একজন বস্ত্র প্রকৌশলী মানসম্মত বস্ত্র উৎপাদন, মাননিয়ন্ত্রণ ও শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ উন্নয়নে বিশেষজ্ঞ। বস্ত্র খাত সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রকৌশলীদের যুক্ত করা হলে, রফতানি বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরো সুসংহত করা সম্ভব।
বর্তমানে বিসিএসসহ অন্যান্য সরকারি চাকরিতে টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের জন্য কোনো স্বতন্ত্র ক্যাডার নেই। অথচ বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও শিল্প মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দফতরে টেক্সটাইল সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ পদ রয়েছে, যেখানে বস্ত্র প্রকৌশলীদের সম্পৃক্ত করা হলে এই খাত আরো গতিশীল হতো। কিন্তু বর্তমানে এসব পদে যারা কর্মরত, তাদের অধিকাংশই বস্ত্র খাতের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত নন।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা টেকসই করতে হলে রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় প্রয়োজনীয় সংস্কার আনতে হবে। বিশেষ করে বস্ত্র খাতের উন্নয়নের জন্য স্বতন্ত্র টেক্সটাইল ক্যাডার চালু করা জরুরি।
সানজিদা আফরিন
শিক্ষার্থী, বুটেক্স