বিএমইউ’র রেডিওলজি বিভাগে আরো মেশিন ও চিকিৎসক নিয়োগ জরুরি
প্রতিদিন রোগীদের অসহনীয় ভিড়
রেডিওলজি বিভাগে দৈনিক প্রায় ৫০টি এমআরআই হয়, ১০০ থেকে ১২০টি সিটি স্ক্যান হয়ে থাকে, ৩০০ থেকে ৩৫০টি নর্মাল আল্ট্রাসনোগ্রাম হয় এবং ৫০০ থেকে ৬০০টি এক্স-রে হয়ে থাকে।
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (সাবেক পিজি) রেডিওলজি বিভাগের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় রেট অনেক কম থাকায় রোগীর ভিড় লেগেই থাকে। কোনো কোনো সময় আগের দিন রাতে এসে লাইন দিয়ে বসে থাকে রোগীরা যেন পরদিন সকাল সকাল পরীক্ষাটা করে নিতে পারেন। রেডিওলজি বিভাগের শিক্ষক-চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সকাল থেকে রেডিওলজি বিভাগের কার্যক্রম শুরু করেও মানুষের চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না। রোগীদের বর্ধিত চাহিদা মেটানোর জন্য এই বিভাগে আরো মেশিন এবং চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রেডিওলজি বিভাগে যত দ্রুত নজর দেবেন ততো মানুষের ভোগান্তি কমে যাবে।
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র থেকে জানা গেছে, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের রেডিওলজি বিভাগে দৈনিক প্রায় ৫০টি এমআরআই হয়, ১০০ থেকে ১২০টি সিটি স্ক্যান হয়ে থাকে, ৩০০ থেকে ৩৫০টি নর্মাল আল্ট্রাসনোগ্রাম হয় এবং ৫০০ থেকে ৬০০টি এক্স-রে হয়ে থাকে। আগে বি ব্লকে রেডিওলজি বিভাগটি থাকলেও এখন এফ ব্লকের বিশাল আয়তন নিয়ে বিভাগের কার্যক্রম চললেও বর্ধিত রোগীর চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না। রোগীর প্রয়োজনেই এই বিভাগটি আরো সম্প্রসারণ করা দরকার।
তবে গত ২১ এপ্রিল রেডিওলজি সোসাইটির সিএমই অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা: মো: শাহিনুল আলম রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (আর্টিফিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স-এআই) সংযোজনের ওপর জোর দেন। তিনি এই বিভাগের জন্য সবচেয়ে ভালো মেশিনটি কেনার কথা বলেন। ভিসি অধ্যাপক শাহীনুল আলম বলেন, সুপার সিলেক্টিভ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের চিকিৎসকদের প্রস্তুতি নিতে বলেন।
মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সব বিভাগে এমনিতেই রোগীর ভিড় লেগেই থাকে। কারণ এখানে আউটডোরেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখানো যায় মাত্র ৩০ টাকা খরচ করে।
দিন দিন রোগী বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আরো বেশি বিশেষায়িত চিকিৎসা এবং বিভাগ বাড়ানোর দাবি উঠেছে রোগীদের পক্ষ থেকেই। তারা বলছেন, আরো বেশি বিশেষায়িত বিভাগ খুলতে পারলে এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা রোগীদের দেশের বাইরে যাওয়ার প্রবণতা কমে আসবে বলে মনে করেন নরসিংদী থেকে আসা রোগী মো: আল আমিন। তিনি করোনার আগে তার চিকিৎসার জন্য প্রায়ই পার্শ্ববর্তী দেশে যেতেন। করোনার কারণে এবং বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে সে দেশে যাওয়াটা কঠিন হওয়ায় তিনি এখন বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেই নিয়মিত ডাক্তার দেখাচ্ছেন।
প্রচণ্ড ভিড় ঠেলে মো: আল আমিনও রেডিওলজি বিভাগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করে থাকেন। কেন করেন এখানে, এখানে তো ভিড় অনেক বেশি এই প্রশ্নের জবাবে মো: আল আমিন বলেন, এখানে শুধু এমআরআই-এক্স-রে নয়, রক্তের বিভিন্ন পরীক্ষা হচ্ছে অনেক কম দামে। আবার এই পরীক্ষাগুলোর সাথে যারা যুক্ত তারা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। আমি মনে করি এখানে মানসম্পন্ন পরীক্ষা হয়ে থাকে। সে কারণে কষ্ট করে প্রায়ই এখানে আসি।
মো: আল আমিন সাংবাদিক কাছে পেয়ে কিছু অভিযোগও করেন। সেটা হলো এখানকার আনসার সদস্যরা রোগীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে দীর্ঘ লাইন ভেঙ্গে আগে পরীক্ষার ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। এ ব্যাপারটি প্রশাসনকে দেখা উচিত। একজন রোগী শারীরিক সমস্যা নিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাচ্ছেন। আর এই আনসার সদস্যরা অন্য রোগীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে মুমূর্ষু রোগীদের কষ্ট দিয়ে লাইন ভেঙে অবৈধ সুবিধা করে দিচ্ছে। এটা রেডিওলজি বিভাগে দেখা না গেলেও আউটডোরের আন্ডারগ্রাউন্ডে রক্ত, মল-মুত্র পরীক্ষার সময় ব্যাংকে টাকা জমা দেয়ার সময় দেখা যায়। প্রশাসনের কঠোর নজরদারির কারণে অনেক সময় দেখা যায় না, তবে মাঝে মধ্যেই আনসার সদস্যরা রোগীদের এই কষ্টটি দিয়ে থাকে, প্রশাসনের এটা দেখা উচিত।





