প্রাথমিকের বৃত্তির ফল প্রকাশ
মেধায় ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা এগিয়ে
শুধু মাধ্যমিকেই নয়, এবার প্রাথমিকেও চমক দেখিয়েছে মেয়েরা। প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ছেলেদের পেছনে ফেলে মেধার বিবেচনায় এগিয়ে গেছে মেয়েরা। গতকাল রোববার প্রকাশিত প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফলে এমন চিত্রই দেখা গেছে। ফলাফলের তথ্যউপাত্ত অনুযায়ী এবার মোট ৭৯ হাজার ২৪৬ টি ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। টালেন্টপুলে মোট ৩২ হাজার ৯৬৫ জনের মধ্যে সরকারি বিদ্যালয় থেকে ২৬ হাজার ৩৭৫ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয় থেকে ৬ হাজার ৫৯০ জন বৃত্তি পায়। অন্য দিকে সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৬ হাজার ২৮১ জন যার মধ্যে সরকারি বিদ্যালয় থেকে ৩৬ হাজার ৪২০ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয় থেকে ৯ হাজার ৮৬১ জন। বৃত্তিপ্রাপ্ত মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৩৫ হাজার ৮৯২ জন (৪৫ দশমিক ২৯ শতাংশ) এবং ছাত্রী ৪৩ হাজার ৩৫৪ জন (৫৪ দশমিক ৭১ শতাংশ)।
গতকাল রোববার সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ উদ্বোধন করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান
এবারের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় মোট ৭৮ হাজার ৮১০টি বিদ্যালয় অংশগ্রহণ করেছে, যার মধ্যে সরকারি বিদ্যালয় ৬৫ হাজার ৬০৫টি এবং বেসরকারি বিদ্যালয় ১৩ হাজার ২০৫টি। মোট নিবন্ধিত পরীক্ষার্থী ছয় লাখ ৪৫ হাজার ৪১ জন যেখানে ছাত্র দুই লাখ ৫৬ হাজার ১১৭ জন এবং ছাত্রী তিন লাখ ৮৮ হাজার ৯২৪ জন।
কিন্ডারগার্টেন স্কুল ভালো করেছে
প্রকাশিত ফলে দেখা যায়, বেসরকারি ক্যাটাগরিতে মোট ১৬ হাজার ৪৫১ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি অর্জন করেছে। এর মধ্যে ছাত্র আট হাজার ১৬২ জন (৪৯.৬১ শতাংশ) এবং ছাত্রী আট হাজার ২৮৯ জন (৫০.৩৯ শতাংশ)। জেলাভিত্তিক ফলে ঢাকা জেলা সর্বোচ্চ দুই হাজার ৮৫০টি বৃত্তি অর্জন করেছে। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে এক হাজার ১৩৯টি এবং সাধারণ গ্রেডে এক হাজার ৭১১টি বৃত্তি রয়েছে। অন্য দিকে ঝালকাঠি জেলা সবচেয়ে কম ১২টি বৃত্তি পেয়েছে, যার মধ্যে ট্যালেন্টপুলে পাঁচটি এবং সাধারণ গ্রেডে সাতটি।
ফল প্রকাশের আগেই বিপত্তি
এ দিকে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল গত বৃহস্পতিবার প্রকাশের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেদিন হয়নি। কিন্তু আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশের আগেই ওই দিন ঢাকা বিভাগের ৯ জেলার ফলাফল নির্ধারিত লিংকগুলোতে আপলোড করা হয়। এরপর লিংকগুলো থেকে সাধারণ ব্যবহারকারীরা ফলাফল আপলোড করেন এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় অসদাচরণের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের এক কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বৃত্তিপ্রাপ্তরা কে কত টাকা পাবে
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর সূত্র জানায়, বর্তমানে ট্যালেন্টপুল (মেধাবৃত্তি) প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা মাসে ৩০০ টাকা এবং বছরে এককালীন ২২৫ টাকা পাচ্ছে। অন্য দিকে সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্তরা মাসে ২২৫ টাকা ও বছরে এককালীন ২২৫ টাকা করে পাচ্ছে। তবে ২০২৬ সালের জন্য প্রস্তাবিত নতুন কাঠামো অনুমোদিত হলে বৃত্তির অর্থ বাড়বে। সে ক্ষেত্রে ট্যালেন্টপুল বৃত্তির মাসিক ভাতা ৬০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তির মাসিক ভাতা ৪৫০ টাকায় উন্নীত হবে। এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী বলেন, বৃত্তির সংখ্যা একই আছে (৮২ হাজার ৫০০টি)। তবে মেধাবৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের এককালীন ২২৫ টাকার জায়গায় ৪৫০ টাকা ও মাসে ৩০০ টাকার জায়গায় ৬০০ টাকা করা হয়েছে। মানে দ্বিগুণ করা হচ্ছে। জানা গেছে, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের অধীনে হলেও বৃত্তির টাকা দেয় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি)। কারণ, পঞ্চম শ্রেণী শেষ করা শিক্ষার্থীরা এই বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। যখন বৃত্তি পায়, তখন তারা মাধ্যমিকে পড়া শুরু করে। নিয়ম অনুযায়ী প্রাথমিক বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত এই বৃত্তির টাকা পায়। এরপর অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা। ওই বৃত্তি পরীক্ষার ভিত্তিতে দশম শ্রেণী পর্যন্ত বৃত্তির টাকা দেয়া হয়।





