আজকের পত্রিকা

এস আলমের ২৬১৯ কোটি টাকা অবরুদ্ধের আদেশ

এস আলমের ২৬১৯ কোটি টাকা অবরুদ্ধের আদেশ

কাগুজে কোম্পানি বানিয়ে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ঋণ

বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো: জাকির হোসেন গালিবের আদালত দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দিয়েছেন।

এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম (এস আলম) ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্টদের এক হাজার ৩৬০টি ব্যাংক হিসাবে থাকা দুই হাজার ৬১৯ কোটি সাত লাখ ১৬ হাজার টাকা অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো: জাকির হোসেন গালিবের আদালত দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দিয়েছেন।

দুদকের উপ-পরিচালক তাহাসিন মুনাবীল হক আদালতে এ আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন। ওই আবেদনে বলা হয়েছে, মোহাম্মদ সাইফুল আলম ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং সংঘটনের অভিযোগ অনুসন্ধানপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য একটি যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। দেখা গেছে, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামিক ব্যাংক পিএলসির বিভিন্ন শাখার বিভিন্ন হিসাবের অর্থ অন্যত্র হস্তান্তর, স্থানান্তর বা বেহাত করার চেষ্টা করছেন তারা। অনুসন্ধান নিষ্পত্তির আগে এসব সম্পদ হস্তÍান্তর বা স্থানান্তর হয়ে গেলে পরবর্তী সময়ে টাকা উদ্ধার করা দুরূহ হয়ে পড়বে। ফলে সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ব্যাংক হিসাবগুলো অবরুদ্ধ করা আবশ্যক, বলা হয় আবেদনে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার চট্টগ্রামভিত্তিক এ গ্রুপের চেয়ারম্যান এস আলমের বিরুদ্ধে ব্যাংক খাতে অনিয়ম, টাকা পাচার, আয়কর ফাঁকির অভিযোগ তদন্ত শুরু করে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা।

ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় এস আলমের বিরুদ্ধে জোরজবরদস্তি করে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার অভিযোগ বহু পুরনো। পরে তিনি ও তার ব্যবসায়ী গোষ্ঠী শরিয়াহভিত্তিক আরো কয়েকটি ব্যাংকের পর্ষদের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এসব ব্যাংক থেকে বিপুল অর্থ নামে ও নাম সর্বস্ব কোম্পানি খুলে অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণ নিয়ে বিদেশে পাচার করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এরই মধ্যে এস আলম ও তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়েছে। তাদের বিও অ্যাকাউন্ট অবরুদ্ধ করে শেয়ার লেনদেনও স্থগিত করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ২৯ অগাস্ট এস আলমসহ সাত আলোচিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর মালিকানা হস্তান্তর স্থগিতের অনুরোধ জানিয়ে যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মগুলোর পরিদফতরকে চিঠি দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এক দিন বাদে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট বলে, এস আলম, তার স্ত্রী ফারজানা পারভীন এবং তাদের ছেলে আহসানুল আলম ও আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের তথ্য পেয়েছেন তারা। এরপর ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর এস আলম ও তার স্ত্রী ফারজানা পারভীনসহ পরিবারের ১২ সদস্যের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয় আদালত।

এরপর গত ১৬ জানুয়ারি এস আলম ও তার পরিবারের সদস্যদের তিন হাজার ৫৬৩ কোটি ৮৪ লাখ ২১ হাজার টাকার শেয়ার অবরুদ্ধের আদেশ দেয়া হয়। ৩ ফেব্রুয়ারি ৩৬৮ কোটি ২৫ লাখ ৬৩ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের ১৭৫ বিঘা সম্পদ জব্দের আদেশ হয়। ১২ ফেব্রুয়ারি ৪৩৭ কোটি ৮৫ লাখ দুই হাজার ২৭৪টি শেয়ার অবরুদ্ধ করা হয়, যার মূল্য পাঁচ হাজার ১০৯ কোটি টাকা। ২৩ ফেব্রুয়ারি আট হাজার ১৩৩ কোটি ৫৬ লাখ ৭২ হাজার টাকা মূল্যের শেয়ার অবরুদ্ধ করা হয়।

কাগুজে কোম্পানি বানিয়ে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ঋণের মামলা : এ দিকে ইসলামী ব্যাংক গুলশান সার্কেল ওয়ান শাখা থেকে লোন নিয়েছে মার্কেট মাস্টার নামে একটা ভুয়া ট্রেডিং কোম্পানি বলে জানিয়েছেন ব্যাংকটির আইনজীবী ব্যারিস্টার এস এম মইনুল করিম। তিনি জানান, ওই ভুয়া ট্রেডিং কোম্পানির এমডি হচ্ছে নাবিল গ্রুপের এমডি আমিনুল ইসলামের আপন মামা এবং নাবিল গ্রুপের কর্মচারী। এই কোম্পানির নামে মোট ৯৫০ কোটি টাকা স্যাংশন হয়; এই টাকার ৪০০ কোটি টাকা ডিসবার্সমেন্ট হয় এস আলমের অ্যাকাউন্টে এবং সাড়ে ৫০০ কোটি টাকা ডিসবার্স হয় নাবিল গ্রুপের নামে। তিনি জানান, তৎকালীন এমডি মনিরুল মাওলা এবং ইনভেস্টমেন্ট ইনচার্জ মেফতা উদ্দিনের মাধ্যমে কোনো সিকিউরিটি ছাড়া এই লোন দেয়া হয়, যা পরবর্তী সময়ে দেনাসহ এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা হয়। অর্থঋণ মামলা নং ১৯৬/২০২৫। অর্থঋণ মামলা আদালত-৪-এ মামলা দায়ের করা হলে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে সমন ইস্যু করেছেন বলে তিনি জানান।

বিষয়সমূহ

এই সম্পর্কিত আরও

সোম, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সাত মিনিটে এক মাইল দৌড়াতে হবে

সোম, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ডিআরইউ গেমসের পুরস্কার বিতরণ

সোম, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পিএসজির প্রথম জয়

সোম, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ঝিলি-বর্ষার লক্ষ্য মূল জাতীয় দল

সোম, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইউএস ওপেনের নতুন চ্যাম্পিয়ন জভেরেভ