আজকের পত্রিকা

সরকার পরিবর্তন হলেও পরিবর্তন হয়নি তাঁতিদের ভাগ্যের

আ’লীগের আমলে বন্ধ ৬০ ভাগ ভাঁত এবং বেকার ১৫ লাখ শ্রমিক

দেশের সরকার পরিবর্তন হলেও তাঁত শিল্পের সাথে জরিত তাঁতীদের ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতের সরকারগুলোও তাঁতীদের ওপর সুনজর দেয়নি। বিগত ১৬ বছরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের জাঁতাকলে এ শিল্পটি ধ্বংসের পথে যেতে থাকে, বন্ধ হয়ে যায় ৬০ ভাগ তাঁত, বেকার হয়ে পড়ে ১৫ লাখ তাঁতী ও তাঁত শ্রমিক।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২৪ সালের পটপরিবর্তনের পর তাঁতীরা আশায় বুক বেঁধেছিল যে, এবার বুঝি তাদের ভাগ্য খুলবে। কিন্তু গত এক বছরে তাঁতীদের ভাগ্য সেই আগের তিমিরেই রয়ে গেছে। বাংলাদেশ তাঁতবোর্ড ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিক সহযোগিতা ও সুনজর না থাকার কারণে তাঁতশিল্প এখন ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে।

তাঁতীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তাঁতীদের মাঝে সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা বিতরণ ও আংশিক শুল্কমুক্ত সুতা রঙ রাসায়নিকদ্রব্যাদি আমদানি সুবিধা বন্ধ রয়েছে। তাঁত বোর্ডে সুতা, রঙ ও রাসায়নিক দ্রব্যাদি আমদানি সুপারিশ বন্ধ থাকায় খোলা বাজারে এর দাম এখন দ্বিগুণ হয়েছে। তাঁতীরা খোলা বাজার থেকে দ্বিগুণ দামে সুতা, রঙ ও রাসায়নিক দ্রব্যাদি ক্রয় করে টিকে থাকার চেষ্টা করছে। কিন্তু কাপড় তৈরিতে খরচ বেশি পড়ায় প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারছে না। ফলে অনেক তাঁতী পেশা ত্যাগ করছেন।

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার একজন বিশিষ্ট তাঁত ব্যবসায়ী হাফিজ উদ্দিনের শতাধিক তাঁতে শাড়ি লুঙ্গিসহ বিভিন্ন ধরনের কপড় তৈরি করেন। তার উৎপাদিত কাপড় দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার ব্যবসায়ীরা শাহজাদপুর বিশাল কাপড়ের হাটে এসে কিনে নিয়ে যায়। তার উৎপাদিত কাপড় বিভিন্ন দেশে রফতানিও হচ্ছে। তিনি বলেন, যেহেতু দেশে-বিদেশে তাঁতীদের উৎপাদিত কাপড়ের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, সারা দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সমিতিভুক্ত তাঁতীরা কাপড় উৎপাদনের ক্ষেত্রে আর্থিক ঋণ সহযোগিতা আর আংশিক শুল্কমুক্ত সুতা, রঙ ও রাসায়নিক দ্রব্য আমদানি সুবিধা পেলে কাপড় উৎপাদন ও বিক্রি করে তাঁত ব্যবসায় তাঁতীরা লাভবান হতো, সেই সাথে লাখ লাখ লোকেরও কর্মসংস্থান হতো। এ বিষয়ে এখন বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের মাধ্যমে তাঁতশিল্পের উন্নয়নে সরকারের সুদৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন।

দেশের তাঁতীরা জানান, এর আগে তারা ন্যায্যমূল্যে আংশিক শুল্কমুক্ত সুতা, রঙ ও রাসায়নিক দ্রব্যাদি পেতেন। বর্তমানে তা বন্ধ আছে। তাঁত বোর্ডের মাধ্যমে আবার এই সুযোগ দেয়া হলে তাঁতশিল্পের উন্নতি ও প্রসার ঘটবে এবং সেখানে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। তাঁত শিল্পকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সুতা, রঙ ও রাসায়নিকদ্রব্য (আংশিক শুল্কমুক্ত) আমদানি করা প্রয়োজন।

তাঁতীদের দাবি, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের অধীনে প্রাথমিক তাঁতী সমিতি রয়েছে ১৩৬০টি, জাতীয় তাঁতী সমিতির মাধ্যমে এই সমিতিগুলোকে প্রচলিত আংশিক শুল্কমুক্ত সুতা, রঙ ও রাসায়নিকদ্রব্য আমদানি করার সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। এ ছাড়াও এই ১৩৬০টি সমিতির সব সদস্যকে তাদের অচল তাঁতগুলো সচল করতে ও যাদের তাঁত আছে পুঁজি নাই তাদের মাঝে ঋণ বিতরণ করতে হবে। শেখ হাসিনা পলায়নের পর থেকে তাঁতীদের কোনো প্রকার ঋণসুবিধা দেয়া হয়নি।

সাম্প্রতিক দুইটি প্রাথমিক তাঁতী সমিতিকে (প্রায় ২০ কোটি টাকার) সুতা, রঙ ও রাসায়নিক দ্রব্য আমদানির সুপারিশ দেয়া হলেও সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড প্রাথমিক তাঁতী সমিতিটির আমদানি সুপারিশ স্থগিত করা হয় ১৬ জুলাই তারিখে তাঁত বোর্ডের বোর্ড মিটিং থেকে। স্থগিতের কারণ হচ্ছে, এই সমিতির আওতায় আরো ৪০০ জন তাঁতীর প্রায় দুই হাজার তাঁত রয়েছে সেগুলোকে সমিতির সদস্যভুক্ত করা হয়নি। কিন্তু সুপারিশ স্থগিত হওয়া সত্ত্বেও তাঁত বোর্ডের ডিজিএমের চক্র সিরাজগঞ্জের একটি ব্যাংক শাখায় অবৈধভাবে এলসি খুলেছে।

এ বিষয়ে তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু আহমদ সিদ্দিকী বলেন, এলসি খোলার বিষয়টি স্থগিত করা হয়েছে। আমদানির জন্য এলসি খুলতে তাদের নিষেধ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে তাদের চিঠিও দেয়া হয়েছে। এলসি না খোলার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে, আমদানি-রফতানি নিয়ন্ত্রকের দফতরে, চট্টগ্রাম ও বেনাপোল কাস্টম হাউজকে চিঠি দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের ডিজিএম রতন চন্দ্র সাহা বলেন, সুতা, রঙ ও রাসায়নিকদ্রব্য আমদানির সুপারিশ দেয়া হলেও সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড প্রাথমিক তাঁতী সমিতিটির আমদানি সুপারিশ স্থগিত করা হয়। তার পরেও তারা কিভাবে এলসি খুলল এ বিষয়ে আমরা কিছু বলতে পারব না। এর উত্তর আমাদের জানা নেই। স্থগিতাদেশ থাকা সত্ত্বেও যারা এলসি খুলেছে এ বিষয়ে তারাই ভালো বলতে পারবে।

আমদানি বন্ধ থাকা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে রতন চন্দ্র সাহা বলেন, সুতা, রঙ ও রাসায়নিক দ্রব্যাদি আমদানি আপাতত বন্ধ রয়েছে। এটা সমাধানের জন্য আমরা কাজ করছি। আমদানি সুপারিশের কার্যক্রম শুরু হলে তাঁতীদের সমস্যা সমাধান হবে বলে আমি মনে করি। তাঁতীদের জন্যই তো তাঁত বোর্ডের সৃষ্টি হয়েছে।

জাতীয় তাঁতী সমিতির সেক্রেটারি ফজলুল হক জানান, পোশাক কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড কর্তৃক ইস্যুকৃত সুপারিশ স্থগিত করার পর কোনো অজুহাতেই এলসি খুলতে পারে না। তাঁত বোর্ডকে সংশ্লিষ্ট তফসিলি ব্যাংকে অব্যশই পত্র প্রেরণ করতে হবে। এ ছাড়া কাস্টমস থেকে মাল খালাস হবে না।

এই সম্পর্কিত আরও

সোম, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সাত মিনিটে এক মাইল দৌড়াতে হবে

সোম, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ডিআরইউ গেমসের পুরস্কার বিতরণ

সোম, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পিএসজির প্রথম জয়

সোম, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ঝিলি-বর্ষার লক্ষ্য মূল জাতীয় দল

সোম, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইউএস ওপেনের নতুন চ্যাম্পিয়ন জভেরেভ