বৈঠার ছন্দে মুখর আষাঢ়ের বিল

বৈঠার ছন্দে মুখর আষাঢ়ের বিল
বৈঠার ছন্দে মুখর আষাঢ়ের বিল

কাজী আফতাব হোসেন নগরকান্দা (ফরিদপুর)

বৈঠার ছন্দ, মাঝিদের কোরাস গান আর দর্শকদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে উঠেছিল ফরিদপুরের সালথা উপজেলার খোয়াড় গ্রামের আষাঢ়ের বিল। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে গত শুক্রবার বিকেলে বিলের পানিতে বসে প্রাণবন্ত উৎসবের আয়োজন। নৌকা বাইচের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয় গ্রামীণ মেলাও। এতে শিশু-কিশোর, নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের ব্যাপক উপস্থিতিতে পুরো এলাকা পরিণত হয় মিলনমেলায়।

শুক্রবার বিকেল ৪টায় উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের খোয়াড় গ্রামের বটতলা সংলগ্ন আষাঢ়ের বিলে গ্রামবাসীর উদ্যোগে এ নৌকা বাইচের আয়োজন করা হয়। বিকেল গড়ানোর সাথে সাথে বিলের দুই পাড়ে জমতে থাকে দর্শনার্থীদের ভিড়। আশপাশের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে নৌকা বাইচ দেখতে আসে অনেকে। প্রতিযোগিতা শুরু হলে বৈঠার তালে, ছন্দের দ্রুত লয়ে ছুটতে থাকে একের পর এক বর্নিল বাইচের নৌকা। মাঝিদের সেøাগান ও প্রতিযোগিতার উত্তেজনায় মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। নৌকার গতি বাড়ার সাথে সাথে দর্শকদের করতালি, উল্লাস ও আনন্দধ্বনিতে সরব হয়ে ওঠে বিলের দুই পাড়।

নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে বসানো গ্রামীণ মেলাও দর্শনার্থীদের বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করে। মেলায় ছিল বিভিন্ন গ্রামীণ পণ্য, ঐতিহ্যবাহী সামগ্রী ও নানা ধরনের খাবারের আয়োজন। শিশুদের বিনোদনের জন্যও ছিল নানা ব্যবস্থা। ফলে বাইচের পাশাপাশি মেলাতেও ছিল উপচেপড়া ভিড়।

স্থানীয়রা বলেন, আধুনিকতার প্রভাবে গ্রামবাংলার অনেক ঐতিহ্যবাহী আয়োজন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। নৌকা বাইচের মতো আয়োজন মানুষের বিনোদনের পাশাপাশি গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে এ ধরনের আয়োজন গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও জীবনযাত্রার সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: বাবলুর রহমান খান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার, জেলা স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক মো: জাহিদ হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার খায়রুল বাসার আজাদ, মো: শাহিনুর রহমান শাহিন ও কামরুল ইসলাম প্রমুখ।

এ ছাড়া আটঘর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো: মুরাদুর রহমান, উপজেলা যুবদল নেতা সাফিকুল ইসলাম, মাহফুজুর রহমান খান, মো: জসিম মোল্যা, স্থানীয় সামাদ মাতুব্বর, আনিচুর রহমান মেম্বারসহ জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা নৌকা বাইচ দেখতে আষাঢ়ের বিলে উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী দলগুলোর মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। বৈঠার ছন্দ আর দর্শকদের উচ্ছ্বাসে আষাঢ়ের বিল ফিরে পায় গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচের চিরচেনা উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে উপস্থিত মানুষের মনে ও মননে।