আজকের পত্রিকা

দখলে-দূষণে মৃতপ্রায় আনোয়ারার একসময়ের খরস্রোতা ৬টি খাল

দখলে-দূষণে মৃতপ্রায় আনোয়ারার একসময়ের খরস্রোতা ৬টি খাল
দূষণ ও বর্জ্যে ভরা ইছামতি খাল · নয়া দিগন্ত

প্রায় ৩০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী ইছামতি খালটি উপজেলার উত্তরে শিকলবাহা খাল হয়ে মিলিত হয়েছে কর্ণফুলী নদীর সাথে, আর দক্ষিণে মিলিত হয়েছে শঙ্খ নদীতে। একসময়ে চট্টগ্রাম শহরে ব্যবসায়-বাণিজ্য ও যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যমই ছিল এ খাল।

এন কবির আনোয়ারা (চট্টগ্রাম)

  • কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য ও খাল খনন প্রকল্প কাজে অনিয়ম
  • খালগুলোতে এখন কচুরীপানা দাঁড়িয়ে আছে অভিশাপ হয়ে
  • একসময় উপজেলার মানুষদের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যমই ছিল ২টি খাল

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার একসময়ের খরস্রোতা ছয়টি খালই প্রভাবশালীদের দখলে, কারখানার বিষাক্ত বৈর্জ্য,ে খাল খনন প্রকল্পের কাজে অনিয়ম ও বাঁধের কারণে কচুরীপানায় ভরে গিয়ে এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। এতে মারাত্মক ক্ষতির শিকার হচ্ছে কৃষকেরা।

অথচ একসময় ইছামতি খাল, সাপমারা খাল, শাহ মোহছেন আউলিয়া খাল, কেয়াগড় কান্দুরী খাল, ইজারা বিলের সংযোগ খাল ও শ্রীমতি খালের পানি কৃষিকাজে সেচের জন্য ব্যবহার করতেন কৃষকেরা। আনোয়ারা সদরসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষ চাষাবাদ করতেন এই খালের পানি ব্যবহার করে। এখন সেই খালগুলো দখলে-দূষণে এবং বাঁধ নির্মাণের ফলে মৃত খালে রূপ নিয়েছে।

প্রায় ৩০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী ইছামতি খালটি উপজেলার উত্তরে শিকলবাহা খাল হয়ে মিলিত হয়েছে কর্ণফুলী নদীর সাথে, আর দক্ষিণে মিলিত হয়েছে শঙ্খ নদীতে। একসময়ে চট্টগ্রাম শহরে ব্যবসায়-বাণিজ্য ও যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যমই ছিল এ খাল। আনোয়ারা-চাক্তাই-ফিরিঙ্গি বাজারে নিয়মিত লঞ্চ চলত এই ইছামতি খাল দিয়ে। ইছামতি খালের অসংখ্য শাখা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে, যার পানি সেচ করে বছরজুড়ে চাষাবাদ চলত। এ ছাড়া খাল পাড়ের মানুষরা গোসল ও খাওয়ার কাজে ব্যবহার করত এ খালের পানি। ইছামতি খালকে কেন্দ্র করে সনাতনি ধর্মাবলম্বীদের প্রতিবছরই ইছমতি মেলা বসে। এই মেলাকে ঘিরে পূণ্য লাভের আশায় শত শত নারী-পুরুষ এই খালের পানিতে স্নান করত। কিন্তু ২০২০ সালে পানি উন্নয়ণ বোর্ড খালের দক্ষিণ পাড়ে বরুমচড়া ভরা শঙ্খের মুখে হাইড্রোলিক বাঁধ নির্মাণ ও উত্তর পাশে ইছামতি-শিকলবাহা খালের সংযোগস্থলে স্লুইসগেট নির্মাণ করে বন্ধ করে দিয়েছে নৌ চলাচল ও খালের পানির প্রবাহ। এই সুযোগে বিভিন্ন কারখানার বর্জ্য ফেলে খালটি দখলের চেষ্টা করছে স্বার্থান্বেষী মহল। এ কারণে বিগত কয়েক বছর ধরে চাষাবাদেও এই খালের পানি ব্যবহার করতে পারছে না কৃষকরা।

স্থানীয়রা বলছে, প্রতিনিয়ত ময়লা-আবর্জনা ফেলায় জীববৈচিত্র্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে। বর্তমান সময়ে ইছামতির তীরবর্তী এলাকাটিতে পানি দূষণের কারণে বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে।

আরেকটি উল্লেখযোগ্য খাল সাপমারা। এটি কর্ণফুলী নদীর মোহনা থেকে শঙ্খ নদী পর্যন্ত বয়ে গেছে। এই খালের পানি দিয়ে রায়পুর, বারশত, বটতলী ও জুইদণ্ডী ইউনিয়নের কৃষকদের জমি চাষাবাদ ছাড়াও জৈদ্দারহাট, আন্নর আলী সিকদারহাট, ওয়াহেদ আলী চৌধুরী বাজার ও জুঁইদণ্ডী চৌমহনী বাজারের মালামাল চট্টগ্রাম শহর থেকে নৌকাযোগে আনা নেয়া হতো। বর্তমানে খালের দু’পাড় দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে অসংখ্য দোকানপাট। মাছ শিকারের জন্য খালের মধ্যে শতাধিক বাঁধ দেয়া হয়েছে। এখন এই খালেও পানি চলাচল বন্ধ। অনেকটা শুকিয়ে গেছে খালটি।

অপরদিকে, উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের পশ্চিম রায়পুর থেকে সরেঙ্গা শঙ্খ নদী পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার ইজারা বিলের সংযোগ খালটি এবং বটতলী থেকে আইরমঙ্গল হয়ে বরুমচড়া গোদারপাড় পর্যন্ত শ্রীমতি খালের দশাও করুণ। শ্রীমতি খালের বটতলী রুস্তম হাটের পাশ থেকে প্রায় তিন কিলোমিটারজুড়ে দখল-দূষণে বিপর্যস্ত প্রায়।

এ ছাড়া দখল-দূষণে বৈরাগ ইউনিয়নের কাপকো হাউজিং এলাকা থেকে চাতরী কেয়াগড় পর্যন্ত কান্দুরী খালের প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকায় চলছে দখলের মহোৎসব। স্থানীয় মো: ইকবাল হোসেন বলেন, প্রতিদিন গরুর ব্যাপারীরা তাদের যাবতীয় ময়লা-আবর্জনা ফেলছেন কান্দুরী খালটির চাতরী অংশে। এ ছাড়া স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও নিজেদের দোকানের উচ্ছিষ্টসহ বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ফেলে খালকে দূষিত করছে।

উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী (বিএডিসি) আজমানুর রহমান বলেন, নানাস্থানে বাঁধ ও ময়লা-বর্জ্যে ভরে যাওয়ায় আগের মতো জোয়ার ভাটা আসতে না পারায় পানির প্রবাহ নেই বললেই চলে। যে কারণে সেচের সুবিধা পাচ্ছেন না কৃষকরা। তিনি বলেন, আমরা এ পর্যন্ত তিনটি খাল কেটেছি। মোহছেন আউলিয়া খাল, কোদালা খাল ও গোবাদিয়া খাল।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো: রাশিদুল হক বলেন, মরা খালগুলো ভাগ ভাগ করে মাছ চাষের ইজারা দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু তা আর কার্যকর হয়নি। এভাবে খালগুলোতে পানি প্রবাহ না থাকায় মৎস্য চাষও করা যাচ্ছে না।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহমিনা আক্তার বলেন, খাল ও জলাশয় হল দেশের রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যম। এসব খাল দখল ও দূষণমুক্ত করতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পরিবেশ অধিদফতরের ভূমিকা রয়েছে। তাদের সাথে কথা বলে প্রতিটি খালকে বাঁচাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই সম্পর্কিত আরও

সোম, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সাত মিনিটে এক মাইল দৌড়াতে হবে

সোম, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ডিআরইউ গেমসের পুরস্কার বিতরণ

সোম, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পিএসজির প্রথম জয়

সোম, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ঝিলি-বর্ষার লক্ষ্য মূল জাতীয় দল

সোম, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইউএস ওপেনের নতুন চ্যাম্পিয়ন জভেরেভ