যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্প-পুতিন ফোনালাপ আজ
- ইউক্রেন ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে রাজি, ট্রাম্প এখন পুতিনের সমর্থন চান
- ইউক্রেনকে কোনোভাবেই ন্যাটোর অংশ করা যাবে না, শর্ত রাশিয়ার
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি আজ মঙ্গলবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সাথে কথা বলার পরিকল্পনা করছেন এবং ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধ করার বিষয়টি আলোচনা করবেন। এর আগে মস্কোয় যুক্তরাষ্ট্র এবং রুশ কর্মকর্তাদের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। ট্রাম্প ফ্লোরিডা থেকে ওয়াশিংটন ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ান-এ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা দেখতে চাই, আমরা এই যুদ্ধ শেষ করতে পারি কি না। হয়তো আমরা পারব, হয়তো পারব না। কিন্তু আমি মনে করি, আমাদের একটি খুব ভালো সুযোগ রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমি মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট পুতিনের সাথে কথা বলব। সপ্তাহের শেষে অনেক কাজ সম্পন্ন হয়েছে।’ ইউক্রেনে ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের জন্য ট্রাম্প পুতিনের সমর্থন জিততে চান। গত সপ্তাহে ইউক্রেন এ প্রস্তাব মেনে নিয়েছিল। দুই পক্ষই সপ্তাহের শেষে ভারী বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে এবং রাশিয়া তাদের পশ্চিমাঞ্চলীয় কুরস্ক অঞ্চল থেকে ইউক্রেনীয় বাহিনীকে বিতাড়িত করার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে।
ক্রেমলিনের কাছ থেকে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে তৎক্ষণাৎ কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। ক্রেমলিন শুক্রবার জানিয়েছিল, মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের মাধ্যমে পুতিন ট্রাম্পকে তার যুদ্ধবিরতির পরিকল্পনা সম্পর্কে একটি বার্তা পাঠিয়েছেন। উইটকফ মস্কোতে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন এবং তিন বছরের এই সঙ্ঘাত শেষ করার জন্য একটি চুক্তি অর্জনের ব্যাপারে ‘সতর্ক আশাবাদ’ ব্যক্ত করেছেন।
রোববার মার্কিন কর্মকর্তারা ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টার যে বাধাগুলো রয়েছে, তা তুলে ধরেন। যদিও রুশ কর্মকর্তারা সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির জন্য কঠোর দাবি তুলে ধরেছেন। রোববার টিভি অনুষ্ঠানে আলাদা আলাদা সাক্ষাৎকারে স্টিভ উইটকফ, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়াল্টজ যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বড় শান্তিচুক্তি অর্জন প্রচেষ্টার সম্ভাব্য অসুবিধাগুলো তুলে ধরেন।
ওয়াল্টজ এবিসি টিভিতে উপস্থিত হয়ে প্রশ্ন করেন, ‘আমরা কি রুশদের প্রতি ইঞ্চি ইউক্রেনীয় মাটি থেকে বিতাড়িত করব?’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো আলোচনা অবশ্যই ‘বাস্তবতার’ ভিত্তিতে হতে হবে। রুবিও সিবিএসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, একটি চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির জন্য ‘অনেক পরিশ্রম রাশিয়া এবং ইউক্রেনের উভয়ের কাছ থেকে ছাড় দিতে হবে।’ তিনি উল্লেখ করেন, এমন আলোচনা ‘যতক্ষণ তারা একে অপরকে গুলি করছে, ততক্ষণ অসম্ভব।’
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুদ্ধ শেষ হওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন, কারণ কিয়েভ যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব মেনে নিয়েছে। তবে তিনি আবারো নিশ্চিত করেন, ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব কখনো আলোচনার বিষয় হবে না। জেলেনস্কি বলেন, ‘রাশিয়া যে অঞ্চলগুলো দখল করেছে, সেগুলো ফেরত দিতে হবে।’ তিনি ২০২২ সালে থেকে রাশিয়ার দখলে থাকা ক্রাইমিয়া এবং ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের চারটি অঞ্চলের কথা উল্লেখ করেন।
রাশিয়ার শর্ত : এ দিকে ইউক্রেনকে কোনোভাবেই সামরিক জোট ন্যাটোর অংশ করা যাবে না, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে রাশিয়া এমনই শর্ত দিয়েছে বলে জানা গেছে। রাশিয়ার একটি গণমাধ্যমে দেশটির সরকারি মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দু’টি বিষয় স্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে। এক. ইউক্রেনকে কোনোভাবেই ন্যাটোর অংশ করা যাবে না এবং দুই. যেকোনো শান্তি আলোচনায় ইউক্রেনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে।
রাশিয়ার ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার গ্রুশকো জানিয়েছেন, ‘আমরা আশা করব, এই শান্তিচুক্তিতে নিরাপত্তার বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব পাবে এবং সে জন্যই ইউক্রেনকে এই আলোচনায় নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে।’ একই সাথে তিনি জানিয়েছেন, ইউক্রেনে ন্যাটো কোনোরকম কাজ করতে পারবে না। এমনকি, ন্যাটোর সেনাও ইউক্রেনে থাকতে পারবে না।
রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ জানিয়েছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে তারা একটি বিষয়ে সম্পূর্ণ দ্বিমত। ইউরোপীয় ইউনিয়ন চায় ইউক্রেনে ন্যাটোর শান্তি সেনা মোতায়েন করতে; কিন্তু রাশিয়া কোনোভাবেই তা মেনে নেবে না।





