চট্টগ্রাম বন্দরে এপিএম টার্মিনালস লালদিয়ার গ্রাউন্ড ব্রেকিং আজ

বিশেষ সংবাদদাতা চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের পতেঙ্গার লালদিয়ার ডেনিশ প্রতিষ্ঠান এপি মুলার (এপিএম) কনটেইনার টার্মিনালের গ্রাউন্ড ব্রেকিং অনুষ্ঠান আজ রোববার সকালে অনুষ্ঠিত হবে। চট্টগ্রাম বন্দরের সমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য আরো গতিশীল করতে সম্পূর্ণ বিদেশী বিনিয়োগে টার্মিনালটির আনুষ্ঠানিক নির্মাণকাজের সূচনা হতে যাচ্ছে।

লালদিয়া প্রজেক্ট সাইটে গ্রাউন্ড ব্রেকিং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও বিশেষ অতিথি থাকবেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

এ প্রকল্পটি পিপিপি বা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব মডেলে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটি বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) বিনিয়োগ, যার মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি। প্রকল্পের আওতায় কনটেইনার ইয়ার্ড, জেটি, গেট, আধুনিক কার্গো হ্যান্ডলিং ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য অবকাঠামো গড়ে উঠবে।

কর্ণফুলী নদীর পাড়ের ৫৯ দশমিক ১৫ একর জায়গায় হবে টার্মিনালটি। এর মধ্যে ৩২ একরে মূল টার্মিনাল, ৭ দশমিক ১৫ একরে কনটেইনার ইয়ার্ড এবং ১০ একরে ট্রাক পার্কিং। টার্মিনালটির বার্ষিক হ্যান্ডলিং সমতা হবে প্রায় আট লাখ টিইইউএস এবং জেটির দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৬১৫ মিটার। সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও আধুনিক এসটিএস ক্রেনসহ উন্নত কার্গো হ্যান্ডলিং ব্যবস্থা এখানে স্থাপন করা হবে। প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন চলবে ৩০ বছর, প্রয়োজনে বাড়বে আরো ১৫ বছর। টার্মিনালটির জেটিতে ভিড়তে পারবে সাড়ে ১০ দশমিক মিটার ড্রাফট ও ছয় হাজার টিইইউএস ধারণ ক্ষমতার বড় জাহাজ।

সূত্র জানায়, এ টার্মিনালে থাকবে সাতটি শিপ টু শোর (এসটিএস) গ্যান্ট্রি ক্রেন, ৩২টি ইলেকট্রিক রাবার টায়ার্ড গ্যান্ট্রি ক্রেন (ইআরটিজিএস) এবং ৪১টি ইলেকট্রিক টার্মিনাল ট্রাক্টরস।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এপিএম টার্মিনালস থেকে ২৫ মিলিয়ন ডলার পেয়েছে এককালীন। বছরে পাবে আড়াই লাখ ডলার কনসেশন ফি। কনটেইনারপ্রতি পাবে ২৩ ডলার। প্রকল্প এলাকা থেকে উচ্ছেদ হওয়া ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে ১৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করবে এপিএম টার্মিনালস। চুক্তি অনুযায়ী ২০৩০ সালে অপারেশনে যাবে লালদিয়া টার্মিনাল।

এপিএমের বিনিয়োগকে স্বাগত ব্যবসায়ীদের

এ দিকে চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনাল প্রকল্পে এপিএম টার্মিনালসের বিনিয়োগের জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। গতকাল শনিবার এপিএম টার্মিনালসের চেয়ারম্যান রবার্ট মার্সক উগ্লাকে প্রেরিত এক পত্রে চেম্বার সভাপতি বলেন, লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনালে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালসের বিশাল বিনিয়োগ বিশ্ব দরবারে একটি নিরাপদ ও লাভজনক বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে আরো উজ্জ্বল করবে। এ প্রকল্পের সুদূরপ্রসারী প্রভাব কেবল একটি টার্মিনাল নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ টার্মিনাল অপারেটরের উপস্থিতি বাংলাদেশে আরো বেশি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

চট্টগ্রামের কৌশলগত ভৌগোলিক সুবিধার কারণে রিজিওনাল ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড লজিস্টিক হাব হবার সমূহ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে চেম্বার সভাপতি এ.পি. মোলার-মার্সক ও এপিএম টার্মিনালসকে চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশে আরো বৃহৎ অবকাঠামোগত প্রকল্প বিশেষ করে বে-টার্মিনাল, জাহাজ নির্মাণ ও বৃহৎ শিল্পে বিনিয়োগ এবং ২০৩৪ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতিতে পরিণত করার সরকারের লক্ষ্য বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।