কিশোরগঞ্জের ‘পাগলা মসজিদ’। নামের মধ্যেই একটি উদ্ভট ব্যাপার আছে। নামটি শোনা মাত্রই দ্বীনি বিষয়ে অজ্ঞ মানুষের মস্তিষ্কে মসজিদটির ব্যাপারে একটি অলৌকিকতার ধারণা তৈরি হয়। মানুষের মধ্যে কৌতূহলের উদ্রেক করে।
এই মসজিদ নির্মাণের ক্ষেত্রে একজন পাগলের সম্পৃক্ততার যে ভৌতিক গল্প শোনানো হয়, তার ঐতিহাসিক কোনো প্রমাণ আছে বলে আমার জানা নেই। কিন্তু এ মসজিদকে কেন্দ্র করে সাধারণ ও অসচেতন মানুষের পাগলামি দিন দিন বেড়েই চলেছে।

অনেকের ধারণা, এ মসজিদের বিশেষ ফজিলত ও কারামত রয়েছে। এখানে দান খয়রাত করলে এবং এ মসজিদ জিয়ারত করলে মনের আশা পূরণ হয়, বালামুছিবত থেকে মুক্তি মেলে। এ জাতীয় অসংখ্য ভ্রান্ত বিশ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে এ মসজিদকে কেন্দ্র করে। ফলে অন্যান্য মসজিদে প্রতি মাসের খরচ চালাতে হিমশিম খেলেও পাগলা মসজিদে মাসে কোটি টাকার উপরে দান খয়রাত ও মান্নতের টাকা জমে।

অপর দিকে এই বিপুল অর্থ কোন খাতে কিভাবে খরচ হচ্ছে? এ নিয়েও সৃষ্টি হয়েছে সচেতন মানুষের মধ্যে হাজারো প্রশ্ন।
হাদিসে স্পষ্ট বর্ণিত আছে, পৃথিবীতে কেবল তিনটি মসজিদ বিশেষ ফজিলতের অধিকারী :

১. মসজিদে হারাম; ২. মসজিদে নববী ও ৩. মসজিদে আকসা। এ ছাড়া ফজিলতের ক্ষেত্রে সব মসজিদই সমান।
পাগলা মসজিদকে কেন্দ্র করে মানুষ আস্তে আস্তে শিরকি আকিদা ও কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছে। অথচ ইসলামে শিরক সবচেয়ে ভয়াবহ গুনাহ। শিরকের মূলোৎপাটনের লক্ষ্যে বিশ্বাসগত শিরক ও কর্মগত শিরকের যত সম্ভাব্য পথ আছে সব পথই ইসলাম কঠোরভাবে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে।

অতএব, সাধারণ মানুষকে আকিদাগত বিভ্রান্তি থেকে বাঁচাতে, নতুন প্রজন্মের আকিদা সুরক্ষিত রাখার স্বার্থে, পরবর্তী প্রজন্ম এ মসজিদকেন্দ্রিক শিরকে লিপ্ত হওয়ার সমূহ শঙ্কা দূর করার লক্ষ্যে, স্থানীয় প্রশাসন ও বিজ্ঞ উলামায়ে কেরামের উচিত এ ব্যাপারে সুচিন্তিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

এ ক্ষেত্রে আমার প্রস্তাব হলো- প্রাথমিকভাবে পাগলা মসজিদের নামটি পরিবর্তন করে সুন্দর, অর্থপূর্ণ ও ইবাদত-বন্দেগির সাথে সামাঞ্জস্যপূর্ণ একটি নাম রাখা।

মসজিদের সাথে পাগলা নামটি আসলে যায় না। আবার মসজিদের নাম পরিবর্তনে শরঈ কোনো বাধাও নেই।
আশা করি, কিশোরগঞ্জের সচেতন মহল বিষয়টি নিয়ে ভাববে। একমত হলে প্রস্তাবটি বেশি বেশি শেয়ার করবেন। পারলে প্রভাবশালী উলামায়ে কেরাম এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে আওয়াজটি পৌঁছে দেবেন।

লেখক : কিশোরগঞ্জ থেকে