বুখারি শরিফে হযরত আবু যর গিফারি রা: বর্ণিত- এক সফরে আমরা রাসূল সা:-এর সঙ্গে ছিলাম। এক সময় মুয়াজ্জিন জোহরের আজান দিতে চাইলে নবী কারিম সা: তাঁকে বললেন, গরম কমতে দাও। কিছুক্ষণ পর আবার মুয়াজ্জিন আজান দিতে চাইলে নবী কারীম সা: (পুনরায়) বললেন, গরম কমতে দাও। এভাবে তিনি (সালাত আদায়ে) এত বিলম্ব করলেন যে আমরা টিলাগুলোর ছায়া দেখতে পেলাম। অতঃপর নবী কারীম সা: বললেন, গরমের প্রচণ্ডতা জাহান্নামের উত্তাপ হতে আসে। কাজেই গরম প্রচণ্ড হলে উত্তাপ কমার পর সালাত আদায় করো (বুখারি : ৫৩৯)।
বুখারির আরেক বর্ণনায় আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত- রাসূল সা: ইরশাদ করেছেন, জাহান্নাম আপন প্রতিপালকের নিকট অভিযোগ করে বলেছিল, হে আমার প্রভু! (দহনের প্রচণ্ডতায়) আমার একাংশ অন্য অংশকে খেয়ে ফেলেছে। মহান আল্লাহ তখন তাকে অনুমতি দিলেন দু’টি নিঃশ্বাস ফেলার। এক নিঃশ্বাস শীতকালে, আর এক নিঃশ্বাস গরমকালে। এ জন্যই তোমরা গরমকালে তাপের তীব্রতা এবং শীতকালে শীতের প্রচণ্ডতা অনুভব করে থাকো (বুখারি : ৫৩৭)। সুতরাং হাদিস দ্বারা বোঝা যায় গরমের তীব্রতা জাহান্নামের তীব্রতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। কাজেই তীব্র গরমে জাহান্নামের কথা স্মরণ করে মহান আল্লাহর কাছে বেশি বেশি জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও গরমের তীব্রতা কমিয়ে পরিবেশ শীতল করতে বৃষ্টির প্রার্থনা করা উচিত।
বৃষ্টি না হওয়ায় তাপপ্রবাহে দেশের মানুষের বিপদ-আপদ ও দুঃখ-কষ্ট হতে থাকলে প্রয়োজন পূরণের জন্য আল্লাহর দরবারে সালাত পড়ে পানি প্রার্থনা করে দোয়া করা সুন্নত। বৃষ্টির যিনি মালিক তাঁর কাছেই বৃষ্টি প্রার্থনা করতে বলে ইসলাম। একেই আরবিতে বলা হয় ‘ইসতিসকা’ অর্থাৎ পানি প্রার্থনা করা। বৃষ্টি তো তাঁরই রহমত ও মহান কুদরতের প্রকাশ। তিনি চাইলে বৃষ্টি দেন, আবার চাইলে অনাবৃষ্টিতে ভোগান। তাই অনাবৃষ্টির এমন সঙ্কটাপন্ন পরিস্থিতিতে বৃষ্টিদাতার দিকেই ফিরে আসা প্রকৃত জ্ঞানীর কাজ।
আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তিনিই আল্লাহ, যিনি বায়ু প্রেরণ করেন। অতঃপর তা (বায়ু) মেঘমালাকে সঞ্চালিত করে। অতঃপর তিনি মেঘমালাকে যেভাবে ইচ্ছা আকাশে ছড়িয়ে দেন এবং তাকে (মেঘমালাকে) স্তরে স্তরে রাখেন। এরপর তুমি দেখতে পাও যে, তার মধ্য হতে বৃষ্টিধারা নির্গত হয়। তিনি তার বান্দাদের মধ্যে যাদের ইচ্ছা তা (বৃষ্টি) পৌঁছান; তখন তারা আনন্দিত হয়’ (সূরা রুম : ৩৮)।
লেখক : শিক্ষার্থী, জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম নতুনবাগ, রামপুরা, ঢাকা
গরমের তীব্রতা ও করণীয়
বুখারি শরিফে হযরত আবু যর গিফারি রা: বর্ণিত- এক সফরে আমরা রাসূল সা:-এর সঙ্গে ছিলাম। এক সময় মুয়াজ্জিন জোহরের আজান দিতে চাইলে নবী কারিম সা:...





