শয়তান (ইবলিশ) যখন জান্নাত থেকে বিতাড়িত হয়েছিল, তখন সে তার রবের কাছে এই বলে দৃঢ়প্রতিজ্ঞা করেছিল যে, ‘আমি আপনার অল্পসংখ্যক বান্দা ব্যতীত সবাইকে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করব।’ এ জন্য শয়তান কিয়ামত পর্যন্ত মানবজাতিকে বিপথগামী ও অপদস্থ করার লক্ষ্যে প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছে এবং চালিয়ে যাবে। পক্ষান্তরে আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের সঠিক পথে পরিচালিত করার জন্য যুগে যুগে অনেক নবী-রাসূল পাঠিয়েছেন এবং অসংখ্য সহিফা ও আসমানি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। প্রত্যেক কিতাবে শয়তান যে মানবজাতির চিরাচরিত শত্রু তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে এবং নবী-রাসূলরাও শয়তানের বিভিন্ন কূটকৌশল থেকে মানবজাতিকে সতর্ক করেছেন।

তারপরও যারা শয়তানের ফাঁদে পা দিয়ে সঠিকপথ থেকে বিচ্যুত হবে, তাদের জন্য রয়েছে চিরস্থায়ী জাহান্নাম। জাহান্নামিরা জাহান্নামে প্রবেশের পর শয়তানকে দায়ী করে বলবে, ‘আজ তোমার জন্য আমরা জাহান্নামের ইন্ধন হয়েছি, এসবের জন্য তুমিই দায়ী।’ তখন শয়তান জাহান্নামের অগ্নিমঞ্চে দাঁড়িয়ে তাদের উদ্দেশে এক তেজোদ্দীপ্ত ভাষণ দেবে : ‘আল্লাহ তো তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন; সত্য প্রতিশ্রুতি। আমিও তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম; কিন্তু আমি তোমাদেরকে দেয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছি। আমার তো তোমাদের ওপর কোনো আধিপত্য ছিল না, আমি কেবল তোমাদেরকে আহ্বান করেছিলাম এবং তোমরা আমার আহ্বানে সাড়া দিয়েছিলে। সুতরাং তোমরা আমার প্রতি দোষারোপ করো না; বরং তোমরা নিজেদেরই দোষারোপ করো। আমি তোমাদের উদ্ধারে সাহায্য করতে সক্ষম নই এবং তোমরাও আমাকে সাহায্য করতে সক্ষম নও। তোমরা যে আগে আমাকে আল্লাহর শরিক করেছিলে আমি তা অস্বীকার করছি, জালিমদের জন্য তো মর্মন্তুদ শাস্তি রয়েছে।’ (সূরা ইবরাহিম-২২)
আল্লাহ তায়ালা কুরআনের বিভিন্ন স্থানে শয়তান সম্পর্কে সতর্ক করে বলেছেন- ‘সে তাদেরকে (মানবজাতিকে) প্রতিশ্রুতি দেয় আর তাদের হৃদয়ে মিথ্যা বাসনার সৃষ্টি করে; আর শয়তান তাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দেয় তা ছলনামাত্র।’ (সূরা আন নিসা-১২০) ‘(হে মানবজাতি! তোমরা) শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না, নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।’ (সূরা বাকারা-১৬৮)
এভাবে আল্লাহ তায়ালা মানবজাতিকে শয়তানের প্ররোচনা থেকে বেঁচে থাকতে আহ্বান করেন।
লেখক : সিনিয়র শিক্ষক, জামেয়াতুস সুন্নাহ, ঝিনাইদহ সদর