পেঁয়াজের বাজারে চলছে অস্থিরতা। একশ্রেণীর ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট নিজেদের মতো করে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির মূল্য দিনে দিনে বাড়িয়েই চলেছে। সরকারের নানামুখী নজরদারি কিংবা কঠোর হুঁশিয়ারির কোনো প্রচেষ্টাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না এর মূল্য; বরং প্রতিদিন বাজারে বাড়ছে পেঁয়াজের মূল্য। কারো কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। কারো কোনো নির্দেশনাও মানছেন না ব্যবসায়ীরা।
ইসলাম খাদ্যসামগ্রী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি আটকে রেখে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরির মাধ্যমে অধিক মুনাফা অর্জনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। দুনিয়া ও আখিরাতে মজুদদারির ভয়াবহ শাস্তির কথা পবিত্র কুরআন মাজিদে বর্ণনা করা হয়েছে। মজুদদারি সম্পর্কে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন- ‘যারা সোনা-রুপা (ধন-সম্পদ) জমা করে এবং আল্লাহর রাস্তায় খরচ করে না তাদের জন্য আপনি যন্ত্রণাদায়ক আজাবের সংবাদ দিন। সেদিন এসব ধন-সম্পদ আগুনে গরম করা হবে। অতঃপর তা দিয়ে তাদের কপাল, পাঁজর আর পিঠে দাগ দেয়া হবে। (বলা হবে), তোমরা যা কিছু নিজেদের জন্য জমা করে রেখেছিলে এগুলো তো সে সব ধন-সম্পদ। সুতরাং তোমরা যা কিছু জমা করে রেখেছিলে, এখন তার স্বাদ আস্বাদন করো।’ (সূরা আত-তাওবাহ : ৩৪-৩৫)
ব্যক্তিগত বা সমষ্টিগতভাবে অতি মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী মজুদ করে মানুষকে কষ্ট দেয়া ইসলামের দৃষ্টিতে জঘন্য অপরাধ। মহানবী সা: পণ্য মজুদ করাকে কঠোরভাবে নিষেধ করেন। তিনি বলেছেন, ‘যে লোক ৪০ দিন খাদ্যশস্য মজুদ করে রাখল, সে আল্লাহ থেকে নিঃসম্পর্ক হয়ে গেল এবং আল্লাহও নিঃসম্পর্ক হয়ে গেলেন তার থেকে।’ (মুসনাদে আহমাদ) মহানবী সা: ইরশাদ করেন, ‘অপরাধী ব্যক্তি ছাড়া কেউ পণ্য মজুদ করে রাখে না।’ (মুসলিম)
ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর রা: ব্যবসায়ীদের পণ্য মজুদকরণ সম্পর্কে ঘোষণা করেছিলেন, ‘আমাদের বাজারে কেউ যেন পণ্য মজুদ করে না রাখে। যাদের হাতে অতিরিক্ত অর্থ আছে তারা যেন বহিরাগত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সমস্ত খাদ্যশস্য কিনে তা মজুদ করে না রাখে। যে ব্যক্তি শীত-গ্রীষ্মের কষ্ট সহ্য করে আমাদের দেশে খাদ্যশস্য নিয়ে আসে সে উমরের মেহমান।
যেহেতু মজুদদারি জনসাধারণের স্বার্থের পরিপন্থী তাই ইসলামে তা নিষিদ্ধ। পেঁয়াজের পাগলা ঘোড়ার লাগাম টেনে ধরতে শুধু অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভাঙলেই চলবে না, প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য দেশে উৎপাদনেরও ব্যবস্থা করতে হবে। সেই সাথে বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে মধ্যস্বত্বভোগীদের চিরতরে বিতাড়িত করতে হবে। তবেই পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য জনগণের নাগালের মধ্যে আনা সম্ভব।
লেখক : আলেম, প্রাবন্ধিক ও কলেজ শিক্ষক