চলতি বছরেই কম্পিউটার শিল্পের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিজেদের ডিভাইসটি দেখানোর পরিকল্পনা করেছেন অর্কার প্রধান নির্বাহী রিচার্ড মারি। যদিও বিশেষজ্ঞরা চিন্তিত ডিভাইসটির কম্পিউটিং ক্ষমতা বাড়ানো নিয়ে। নির্মাণ প্রক্রিয়ার বিবেচনায় বাজারের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর উল্টো পথে হাঁটছে অর্কা কম্পিউটিং। আর দশটি সার্ভার কেবিনেটের মতোই দেখতে অর্কার তৈরি কোয়ান্টাম কম্পিউটার
বিশ্বের সবচেয়ে ছোট কোয়ান্টাম কম্পিউটারগুলোর একটি বানিয়েছে যুক্তরাজ্যের স্টার্টআপ ‘অর্কা কম্পিউটিং’। স্টার্টআপটির প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর আয়ান ওয়াল্মসি দাবি করছেন, তাদের যুগান্তকারী নির্মাণ পদ্ধতি কোয়ান্টাম কম্পিউটারের বাণিজ্যিকায়নের পথ আরো সহজ করবে।
চলতি বছরেই কম্পিউটার শিল্পের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিজেদের ডিভাইসটি দেখানোর পরিকল্পনা করেছেন অর্কার প্রধান নির্বাহী রিচার্ড মারি। যদিও বিশেষজ্ঞরা চিন্তিত ডিভাইসটির কম্পিউটিং ক্ষমতা বাড়ানো নিয়ে। নির্মাণ প্রক্রিয়ার বিবেচনায় বাজারের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর উল্টো পথে হাঁটছে অর্কা কম্পিউটিং। আর দশটি সার্ভার কেবিনেটের মতোই দেখতে অর্কার তৈরি কোয়ান্টাম কম্পিউটার।
বর্তমানে কোয়ান্টাম কম্পিউটার নিয়ে কাজ করছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি সেবা ও পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের বেশ কয়েকটি। এর মধ্যে গুগল ও আইবিএমের নির্মাণ প্রক্রিয়ায় কোয়ান্টাম কম্পিউটারের ‘বিল্ডিং ব্লক’ হিসেবে পরিচিত কিউবিটের তাপমাত্রা নামিয়ে আনতে হয় শূন্যের ঘরে। এতে বাড়ে কারিগরি জটিলতা ও খরচ।
অন্য কোয়ান্টাম কম্পিউটারের সঙ্গে এর পার্থক্য নিয়ে প্রধান নির্বাহী মারি বলেন, প্রথমত, এটা ক্রায়োজেনিকালি ঠাণ্ডা করতে হয় না, ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রাতে চলে এটি। দেখতেও সাধারণ র্যাক মাউন্টেড কম্পিউটারের মতো। আমাদের পদ্ধতিটি একটি করে ফোটন ব্যবহার করে, অর্থাৎ আলোর একটি ইউনিট। আর একটি করে ফোটন ব্যবহারের সুবিধা হলো বাইরের পরিবেশে হস্তক্ষেপ করে না এটি।
বিবিসি জানিয়েছে, প্রচলিত কম্পিউটারের সঙ্গে রিগেটির তৈরি কোয়ান্টাম কম্পিউটারের মিল পাওয়া বেশ কঠিন কাজ। কম্পিউটারটি দেখতে অনেকটা ঝাড়বাতির মতো, যেটি থেকে অনেকগুলো ক্যাবল বের হয়ে এসেছে। এ প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির কর্মী ম্যান্ডি বার্চের দাবি, ‘যুক্তরাজ্যের প্রথম সম্পূর্ণ কার্যকর কোয়ান্টাম কম্পিউটার’ বানিয়েছে তার প্রতিষ্ঠান।
যুক্তরাজ্যের প্রথম ‘কার্যকর কোয়ান্টাম কম্পিউটার’ কথাটি বলছে বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে। বাণিজ্যিক সেবাগ্রাহকদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে কম্পিউটারটি কাজে লাগানোর পরিকল্পনা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২২ সাল থেকে বাজারের অস্থিতিশীলতা মাপতে রিগেটির কোয়ান্টাম কম্পিউটার ব্যবহার করবে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক। ওই কম্পিউটার ব্যবহার করে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ শক্তির ঘাটতি সমাধানের চেষ্টা করবে ফেজক্র্যাফট।
রিগেটির ম্যান্ডি বার্চও বলছেন প্রাথমিক পর্যায়ে আছে তাদের প্রযুক্তি। বর্তমান কোয়ান্টাম কম্পিউটারগুলো প্রচলিত কম্পিউটারের তুলনায় দ্রুত গতিতে, কম খরচে বা আরো ভালোভাবে জটিল সমস্যার সমাধান করতে পারছে, বিষয়টা এমন নয়। কিন্তু আমরা এখানে যেটা করার চেষ্টা করেছি তা হলো, একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করা যার উপর এমন সব সমস্যার কার্যকর সমাধান বের করা যাবে যেগুলো প্রচলিত কম্পিউটিং দিয়ে সম্ভব নয়।