ক্রীড়া প্রতিবেদক
কোয়ার্টার ফাইনালে লাইনআপ
* ২৮ সেপ্টেম্বর : পাকিস্তান বনাম হংকং
* ২৮ সেপ্টেম্বর : ভারত বনাম আফগানিস্তান
* ২৯ সেপ্টেম্বর : শ্রীলঙ্কা বনাম নেপাল
* ২৯ সেপ্টেম্বর : বাংলাদেশ বনাম মালয়েশিয়া
মালয়েশিয়া, একই প্রতিপক্ষ। তবে এবার মাঠটা ফুটবলের নয়, ক্রিকেটের! এশিয়ান গেমসে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ২৯ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় মালয়েশিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ক্রিকেট দল। আর ম্যাচটির আগে বাড়তি উত্তাপ যোগ করেছে ঠিক এক দিন আগের ফুটবল ম্যাচ।
প্রথমবারের মতো আসিয়ান কাপে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। যেখানে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশের ফুটবল দল। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলে বাংলাদেশের ওপর চাপ তৈরি করে রেখেছিল মালয়েশিয়া। আরিফ আইমানের জোড়া গোলের পর দ্বিতীয়ার্ধে আরো এক গোল হজম করে বড় ব্যবধানে হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে হামজা-জামালরা। ছন্নছাড়া পারফরম্যান্স যখন ক্রীড়া সমর্থকদের মনে খচখচানির জন্ম দিয়েছে, তখন লিটন-শান্তদের সামনে প্রতিশোধের সযোগ।
ফুটবলের সেই হারের ক্ষত কিছুটা মুছে দেয়ার সুযোগ টাইগারদের সামনে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে- ক্রিকেটে কতটা শক্তিশালী মালয়েশিয়া? যেন ফুটবলের ঠিক বিপরীত। ক্রিকেটে মালয়েশিয়ার জন্য বাংলাদেশের মুখোমুখি হতে পারাই অনেক বড় অর্জন। এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট ইভেন্টে সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা পাওয়া বাংলাদেশের বিপরীতে মালয়েশিয়াকে খেলতে হচ্ছে গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে। ‘বি’ গ্রুপে হংকং ও ওমানের সাথে ছিল তারা। হংকংকে অবশ্য হেসেখেলেই হারিয়েছে। তবে ওমানের বিপক্ষে খেলতে পারেনি বৈরী আবহাওয়ার কারণে। এর আগে কুয়ালালামপুরে আরব আমিরাতের বিপক্ষে তিনটি টি-২০ খেলেছে দলটি, একপেশেভাবে হেরেছে তিনটি ম্যাচেই। এমনকি এ মাসেই বাহরাইনের কাছে ১২৬ রানের বিশাল হার বরণ করে মালয়েশিয়া। নেপালের কাছেও হেরেছিল ছয় উইকেটে।
এর আগে ২০২৩ সালের হাংজু এশিয়ান গেমসের কোয়ার্টার-ফাইনালেও এই মালয়েশিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ, সেখানে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে মাত্র দুই রানের ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছিল লাল-সবুজরা। পুরনো সেই স্মৃতি রোমন্থন করে ফের মালয়েশিয়ায় বিপক্ষে নামবে শান্ত-লিটনরা।
দলটির নেতৃত্বে আছেন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার সাইয়েদ আজিজ। স্কোয়াডে আছেন মালয়েশিয়ার ক্রিকেটের পরিচিত মুখ বিরানদীপ সিং, পাভানদীপ সিং ও বিজয় উনির মতো ক্রিকেটাররা। কিছু দিন আগে বাংলাদেশে এসে বাংলাদেশ এইচপি দলের বিপক্ষে খেলে গিয়েছিল দলটি। সেই সফরে সবগুলো ম্যাচ হারলেও তখনকার অভিজ্ঞতা এবার একটু হলেও কাজে আসতে পারে।
অর্থাৎ কাগজে-কলমে বাংলাদেশের সাথে মালয়েশিয়ার ব্যবধানটা স্পষ্ট। বাংলাদেশের স্কোয়াডে লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত, তৌহিদ হৃদয়, রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদ, শরিফুল ইসলাম ও মোস্তাফিজুর রহমানের মতো আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞ ক্রিকেটার রয়েছেন। তার পরও ক্রিকেটে ম্যাচটা হবে ২২ গজে, নাম বা র্যাংকিংয়ে নয়। ভালো খেলা ছাড়া তাই বিকল্প নেই লিটনদের। ফুটবলে যে মালয়েশিয়া বাংলাদেশকে কাঁদিয়েছে, ক্রিকেটে সেই মালয়েশিয়াকেই হারিয়ে লিটনরা কি দিতে পারবেন জবাব? হামজাদের হারের পর প্রতিশোধের মঞ্চ যে এবার লিটনদের সামনে।





