১৯৯৭ সালের আইসিসি ট্রফি। সেই আসরে স্কটল্যান্ডকে সেমিতে হারিয়ে বাংলাদেশের ১৯৯৯ এর বিশ্বকাপ ক্রিকেটে কোয়ালিফাই করা। সেই ছাড়পত্রের আনন্দে মেতেছিল পুরো বাংলাদেশ। বহু চেস্টার পর সেই অর্জনটা দারুণভাবেই স্মরণীয় করে রাখা। এরপর বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপও জিতেছে। এখন তো নিয়মিতই ক্রিকেটে বিশ্বকাপে খেলছে টাইগার টাইগ্রেস ও যুব টাইগাররা। দলীয় ইভেন্টে কাবাডিতেও বিশ্বকাপে খেলেছে বাংলাদেশ। ফুটবলে এখনো কোনো লেভেলেই বিশ্বকাপে খেলার সুযোগের ধারে কাছেও যেতে পারেনি লাল-সবুজরা। সেখানে ক্রিকেট ও কাবাডির পর দলীয় ইভেন্টে এই প্রথম বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২১ হকি দল বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়েছে। এবার ওমানে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-২১ এশিয়া কাপে থাইল্যান্ডকে হারিয়ে এই বিশাল অর্জন। তবে বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে খেলার সুযোগ পাওয়ার পরও সে অর্থে মূল্যায়িত হচ্ছেন না হকি খেলোয়াড়রা। বিশেষ করে অর্থ পুরস্কারের ক্ষেত্রে। সাফ ফুটবলে জয়ী দল বা অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে চ্যাম্পিয়ন ক্রিকেটাররা যে অর্থ পুরস্কার পাচ্ছেন সেই টাকাও জোটেনি হকি খেলোয়াড়দের।
বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করার পর চীনকে হারিয়ে আসরে ৫ম হয় হকি দল। এরপর ঢাকায় ফিরলে সামিন-রকিদের পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার দেয় বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন। এরপর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ২০ লাখ টাকা দেয় হকির স্টিকধারীদের। ব্যস ওই পর্যন্তই। আর কেউ অর্থ পুরস্কার দেবে কি না, তা অজানা। যেখানে সাফ জয়ের পর সাবিনা খাতুনদের কোটি কোটি টাকা পুরস্কার দেয়া হয়েছে। অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপজয়ী ক্রিকেট দলকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ৫০ লাখ টাকা দিয়েছে। সেখানে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অনূর্ধ্ব-২১ বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করার জন্য ৫ ও ২০ লাখ টাকা পুরস্কারটা নিতান্তই কম। এর আগে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৬ মহিলা দল এএফসির আসরে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার পর দলের প্রত্যেক ফুটবলারই ১০ লাখ টাকা করে পেয়েছিলেন। সে তুলনায় সামিন-রকিরা প্রাপ্য সম্মানটা পাননি।
হকি খেলোয়াড়দের অবমূল্যায়ন এই প্রথম নয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে হকির প্রথম ট্রফি জয় ২০০৪ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-২১ চ্যালেঞ্জ কাপে। ভারতকে টাইব্রেকারে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়া বাংলাদেশ দলের। এর পরও তেমন অর্থ পুরস্কার জোটেনি মশিউর রহমান বিপ্লবদের। সে দিন ফাইনাল দেখতে আসার কথা ছিল সাবেক মন্ত্রী মরহুম আবদুল মান্নান ভূঁইয়ার। কিন্তু কোনো কারণে আসতে পারেননি। তিনি আসলে হয়তো খেলোয়াড়দের কিছু অর্থ পুরস্কার জুটত। তবে না আসায় তা আর জোটেনি। এরপর এক অনুষ্ঠানে সাবেক ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মরহুম ফজলুর রহমান পটলকে হকি খেলোয়াড়দের অর্থ পুরস্কার দেয়ার অনুরোধ করলেও তার মন গলেনি। পরে অবশ্য প্রত্যেক খেলোয়াড়কে হকি ফেডারেশনের পক্ষ থেকে মাত্র পাঁচ হাজার টাকা করে এবং ক্রীড়া পরিষদের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা করে দেয়া হয়।
ফুটবল ও ক্রিকেটের মতো ঘরোয়া লিগে টাকা পান না হকি খেলোয়াড়রা। ২০০৪ সালের সেই চ্যাম্পিয়ন হকি দলের খেলোয়াড় মশিউর রহমান বিপ্লব দুঃখ করেন বলেন, এটি শুনতেও খারাপ লাগে যে ফুটবলার ও ক্রিকেটাররা এত এত টাকা অর্থ পুরস্কার পায়। আর হকি খেলোয়াড়দের জন্য এত অল্প টাকা। অনেকে তো আমাদের দেখে ভ্রƒ কুঁচকায়।
যে হকি লিগই নিয়মিত হয় না, সেখানে এর চেয়ে কী-ই-বা আশা করা যায়।
হকি খেলোয়াড়দের কপালটাই খারাপ
১৯৯৭ সালের আইসিসি ট্রফি। সেই আসরে স্কটল্যান্ডকে সেমিতে হারিয়ে বাংলাদেশের ১৯৯৯ এর বিশ্বকাপ ক্রিকেটে কোয়ালিফাই করা। সেই ছাড়পত্রের আনন্দে মেতেছিল পুরো বাংলাদেশ। বহু চেস্টার পর...





