ভোলায় বাংলাদেশ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ক্রীড়া পরিষদের অধীনে ভোলা সরকারি স্কুল মাঠে সুইমিংপুল নির্মাণ কাজ চলছে। তবে সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক শেখ আব তালিব, খলিলুর রহমান ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা ফাতেমা খানমের বিরুদ্ধে ব্যাপক হয়রানি ও ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ উঠেছে এ নির্মাণ নিয়ে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভোলা সরকারি স্কুল মাঠের পশ্চিশ পার্শ্বে পরিত্যক্ত জায়গায় বাংলাদেশ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে সুইমিংপুল নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। সুইমিংপুল নির্মাণের জমি অধিকরণের সময় তৎকালীন ভোলা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত মোহাম্মদ দেলওয়ার হোসেন রাঢ়ীর অনাপত্তিপত্র নিয়ে তৎকালীন জেলা প্রশাসকের অনুমতিপত্রসহ কাজ শুরু করেন। ভোলা সরকারি স্কুলের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য স্কুলের ভিতরের জমি পরিদর্শন ও সয়েল টেস্ট করে শিক্ষাপ্রকৌশল অধিদফতর ভোলা। ওই নতুন ভবন উত্তোলনের সময় বর্তমানে এ তিন শিক্ষকদের সিন্ডিকেটে স্কুলের ভিতরের জমিতে না করে মাঠের ভিতরে নতুন স্কুল ভবন নির্মাণের নির্দেশনা ও জোরালো তদবির করেন। পরে ওই মাঠে নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ আরম্ভ করলে স্থানীয়দের বাধার মুখে পরে স্কুল কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় একাধিক বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ভোলা সরকারি স্কুল মাঠটি ভোলার সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। ভোলার মানুষের জন্য ওয়াকওয়ে ও শিশুদের খেলাধুলার জন্য বিভিন্ন ইকুইপমেন্টের ব্যবস্থা করেন ভোলা পৌরসভা। ওই মাঠটি স¤পূর্ণ স্কুলের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য মাঠের ভিতরে একটি স্কুল ভবন নির্মাণে জোর তদবির করেন এ সিন্ডিকেট, যা ভোলার জনসাধারণের সাথে সাংঘর্ষিক। এ ছাড়াও মাঠের সৌন্দর্য রক্ষায় স্কুলের অন্য শিক্ষকরা স্কুল মাঠে নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ না করার পক্ষে রয়েছেন বলে জানা যায়। বিশেষ করে স্থানীয়রা এই কাজে বাধা দেয়ায় বর্তমানে নির্মাণাধীন সুইমিংপুলের কাজ নিয়ে ব্যাপক হয়রানি ও ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ উঠেছে এ তিন সদস্যের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে।
সুইমিংপুল নির্মাণ কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি বলেন, স্কুলের ভবন উত্তোলনে বাধা দেয়ায় আমাদের কাজ নিয়ে বিভিন্ন সময় ওই স্কুলের শিক্ষার্থীদের দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে। গত ১৪ নভেম্বর ওই শিক্ষকদের ইন্ধনে নির্মাণ কাজের বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর ও লুটপাট করে। নির্মাণ কাজে লোহার রড চুরি করে অটোরিকশা দিয়ে নেয়ার সময় ঠিকাদার প্রতিনিধিদের হাতে ধরা পড়ে।
কার ইন্ধনে মালামাল চুরি করছে শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞেস করলে শিক্ষার্থীরা স্কুলের শিক্ষকরা পাঠিয়েছে বলে জানান। লোহার রড চুরি করে অটোরিকশাযোগে নেয়ার সময় ধরা পড়ার একটি ভিডিও প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে।
এ ছাড়া গত ৬ জুলাই ভোলা সুইমিংপুলের নির্মাণাধীন নতুন ছাদ ঢালাই শেষ করার ৩ ঘণ্টা পরে সাটারিং ভেঙে ধসে পড়ে। ঠিকাদারের বক্তব্য ওই সময় কাজ শেষে সাইটের সবাই বাসায় গেলে সাটারিং অন্যত্র সরিয়ে দিয়ে পরিকল্পিত এ দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে, যা বর্তমান ষড়যন্ত্র স্পষ্ট ইঙ্গিত করে। এ ছাড়া এ তিন সিন্ডিকেট শিক্ষকদের কারণে সুইমিংপুলের বাউন্ডারি দেয়াল করতে বাধা প্রধান করা হয়। এ নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ক্রীড়া পরিষদ প্রকল্প পরিচালক বরাবর অভিযোগ দাখিল করে।
এ বিষয়ে ভোলা সরকারি স্কুলের অভিযুক্ত শিক্ষক খলিলুর রহমান বলেন, আমরা স্কুলের নতুন ভবনটি মাঠের পশ্চিম পার্শ্বে উত্তোলনের জন্য প্রস্তাব দিয়েছি। সেটি বাধার মুখে পড়লে জেলা প্রশাসক বরাবর আমরা অভিযোগ দিয়েছি। আমাদের স্কুলের জমিতে স্কুল ভবন করতে না পারলে অন্য স্থাপনাও করা যাবে না। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দিয়ে মালামাল লুটপাট ও ভাঙচুরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান এমন খবর আমিও শুনেছি এবং দেখেছি। তবে বিষয়টির সাথে আমরা সম্পৃক্ত নয়। হয়তোবা শিক্ষার্থীরা নতুন স্কুল ভবন নির্মাণে বাধা দেয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে কাজ করেছেন। অভিযুক্ত অন্য দুই শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তাদের ব্যবহৃত মুঠোফোন বন্ধ পেয়েছি। ফলে তাদের বক্তব্য নেয়া যায়নি।





